Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 7:43 am

রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চায় ইউক্রেন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। সংঘাত এড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইউক্রেন। দেশটির সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান সিকিউরিটি গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে চায় কিয়েভ। খবর: বিবিসি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেন, সীমান্ত এলাকায় কেন সৈন্য জড়ো করা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি রাশিয়া। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার অনুরোধ এড়িয়ে গেছে রাশিয়া। এখন আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে রাশিয়ার পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে ও বিরোধ নিরসনে আলোচনায় বসা।

তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্য জানতে চান। ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতাবিষয়ক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপের (ওএসসিই) সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্পাদিত ভিয়েনা ডকুমেন্টের অধীন থাকা রাশিয়ার অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ওএসসিইর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিলে অবশ্যই উত্তেজনা কমাতে ও সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ইউক্রেনের সীমান্ত এলাকায় প্রায় এক লাখ সৈন্য জড়ো করে রাশিয়া। মিত্র দেশ বেলারুশের সঙ্গে চালাচ্ছে সামরিক মহড়া। কৃষ্ণসাগরে দেখা গেছে দেশটির নৌবাহিনীর শক্ত অবস্থান। ইউক্রেনকে কার্যত ঘিরে ফেলেছে রাশিয়া। দেশটিতে আগ্রাসন চালাতে চায় রাশিয়া বলে জানিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের অভিযোগ, সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। এক ডজনের বেশি দেশ ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিছু দেশ কিয়েভ থেকে তাদের দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে মস্কো। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউক্রেনে হামলার উদ্দেশ্যে এই সেনা মোতায়েন করা হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ‘হামলার গুজব’ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া হামলা চালাতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই।  প্রসঙ্গত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর ইউক্রেনের জন্ম হয়। রাশিয়ার ইউক্রেনকে সব সময় পশ্চিমা বলয় থেকে মুক্ত রাখতে মরিয়া।

এই পরিস্থিতিতে সামরিক সক্ষমতা দেখাতে সম্প্রতি সামরিক শুরু করে ন্যাটো। ইউক্রেনকে এই জোটে নিতে চেষ্টা করছে ন্যাটো। এখানে আপত্তি করেছে রাশিয়া। তাদের দাবি, ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের যোগ দেয়া রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এ ছাড়া সীমান্তে ন্যাটোর সামরিক মহড়ায় উদ্বিগ্ন মস্কো।

এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেয় রাশিয়া। সীমান্তে সেনা মোতায়েন শুরু করে তারা। মস্কো জানায়, ইউক্রেনকে ন্যাটোভুক্ত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে পশ্চিমাদের।