Print Date & Time : 23 April 2026 Thursday 1:12 pm

রেন্টাল-কুইক রেন্টালের বোঝা আর দীর্ঘায়িত না হোক

‘৩ বছরের রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৫-১৭ বছর’ শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদন  প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। খবরে জানা যায়, ১১টি ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে দফায় দফায়,  ১৫ বছর মেয়াদের দুটি এসআইপিপির (স্মল ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ বছর।

গত বছরের মার্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন আর ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রের দরকার নেই। আমরা প্রয়োজন অনুসারে সেগুলো বন্ধ করে দিতে বলেছি। মন্ত্রণালয়ও এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।  ওই সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু হলে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেয়াদপূর্তিতে অবসরে যাবে। এ হিসেবে ১৬টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অবসরে যাবে।

যেখানে ভাড়াভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অবসরে যাওয়ার কথা, সেখানে ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি উৎপাদন শুরু করা ইউনাইটেড এনার্জির আয়ুষ্কাল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। মনে হচ্ছে, নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার। আমাদের মনে আছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বিদ্যুৎঘাটতি মোকাবিলায় অতি দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনায় তিন বছর, পাঁচ বছর ও ১৬ বছর মেয়াদি ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন শুরু করে।

এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বেড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হলেও এসব কেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে সরকার অনেক টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে সমালোচনাও উঠেছিল।

সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বড় কেন্দ্রগুলোও বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে মেয়াদোত্তীর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তি বারবার নবায়ন অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে। এছাড়া কুইক রেন্টাল কয়েকটি কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় ডলারে, যা রিজার্ভের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর সবিশেষ গুরত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রায়ই নতুন নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। যেমন, বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও এখন থেকে সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০-২৫ শতাংশ কম জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে যতই কৃতিত্ব-সাফল্য দাবি করা হোক না কেন, এ খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় তা অনেকটাই ম্লান করে দেয়। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকারের বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে তেলে চালিত ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল, এটি সবারই জানা। কিন্তু এটি এখন শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। কৃচ্ছ্রসাধন করা হবে, কিন্তু ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে তার কয়েক গুণ অপচয় বা লোপাট হবে। এটি বিবেচনাপ্রসূত নয়। সরকারি আর বেসরকারি হোক, সব ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন রোধে রেন্টাল-কুইক রেন্টালের বোঝা যেন আরও দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।