Print Date & Time : 20 April 2026 Monday 3:54 pm

র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার জটিল- যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এখনই যে উঠছে না, তা স্পষ্ট হলো যুক্তরাষ্ট্রের সফররত কর্মকর্তার বক্তব্যে। গতকাল ঢাকায় দুই দেশের অংশীদারি সংলাপের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, এটা ‘জটিল ও কঠিন’ বিষয়।

এবারের সংলাপে আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র‌্যাবের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গত বছর ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমদসহ বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে আজকের আলোচনার জটিল ও কঠিন বিষয়। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে আমি বলতে পারি, আমাদের আলোচনার অনেক বিষয়ের মধ্যে এটা খুব কম সময়ই নিয়েছে। আপনারা জানেন, র‌্যাবের কার্যক্রম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে পারি, গত তিন মাসে এসব বিষয় প্রতিকারের ক্ষেত্রে আমরা উন্নতি লক্ষ্য করেছি, যা পররাষ্ট্র সচিব মোমেন আজ খোলাসা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের পরিকল্পনাসহ একটি প্রতিবেদন পেয়েছি এবং এসব বিষয়ে কাজ করতে চাই। কারণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আমাদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।’

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, বৈঠকে উভয়পক্ষ কিছু বিষয়ে একে অপরকে ভালোভাবে বোঝা এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়েছে। যেমনÑর‌্যাবের ও তার সংশ্লিষ্টদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ জানিয়েছি। আমরা এটা ব্যাখ্যা করেছি, কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা সরকারের সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবিলা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং পাশাপাশি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছি। এক্ষেত্রে আলোচনা অব্যাহত রাখতে চাই আমরা।’

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বলেন, ‘আমাদের আলোচনা হয়েছে। র‌্যাব ও এর কার্যক্রমের পাশাপাশি আমাদের নেয়া কিছু উদ্যোগের বিষয় উল্লেখ করে আমরা একটি নন-পেপার ডোশিয়ার হস্তান্তর করেছি। তারা এটা নিয়ে যাবে এবং দেখবে। বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব এবং আশা করি এই বিষয়টা সময়মতো সমাধান হবে।’ র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা রেখে দুদেশের সম্পর্ককে বিস্তৃত করা কীভাবে সম্ভব এ প্রশ্নের উত্তরে নুল্যান্ড বলেন, ‘যখন মানবাধিকার ও মৌলিক আইনের লঙ্ঘন হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র কখনও চুপ করে থাকবে না। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আলোচনা অব্যাহত রাখব। কারণ আইনশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আমাদের অব্যাহত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।’