চট্টগ্রামে বিডার চেয়ারম্যান

লালদিয়া গ্রিন পোর্টে ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, পোর্ট ক্যাপাসিটি এখন লিমিটেড। ছয়গুণ করার পরও ভিয়েতনামের ধারেকাছেও যাব না। তাই এক্সপার্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া, যাতে কম জায়গায় বেশি অপারেশন করা যায়। বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব করা সরকারের লক্ষ্য। লালদিয়া গ্রিন পোর্ট হবে। ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া বে-টার্মিনালে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। বিষয়টি খুবই সিরিয়াসলি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছি।

গতকাল বৃহস্পতিপবার সকালে পতেঙ্গা লালদিয়া টার্মিনাল ও বে-টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শনে আসেন আশিক চৌধুরী। সকালে পতেঙ্গা লালদিয়া টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন শেষে বে-টার্মিনালে আসেন তিনি। এরপর বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম ও উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আশিক চৌধুরী বলেন, সিঙ্গাপুর আমাদের একই সময়ে স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন হয়ে তারা আজকে একটা কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট লেভেলে চলে গেছে এবং সেটা চলে যাওয়ার পেছনে তাদের পোর্টের কন্ট্রিবিউশন সবচেয়ে বেশি। তারা তো একটা ট্রেডিং হাবে পরিণত হয়েছে। সুতরাং পিএসএর খুবই ভালো এক্সপেরিয়েন্স। আমাদের সঙ্গে বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো নিয়ে আসবে এবং আমরা এস্টিমেট করছি যে, এই পিএসএ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড রাফলি এক বিলিয়ন ডলার করে এই প্রজেক্টে ইনভেস্ট করবে। আমরা প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের মতো একটা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের চেহারা দেখতে পাব। এটা গ্র্যাজুয়ালি আসবে। সো তাদের কনস্ট্রাকশন পিরিয়ডের মধ্যে তারা গ্র্যাজুয়ালি ইনভেস্ট করতে থাকবে এবং আমরা আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে এই পোর্টগুলোকে চালু করতে পারব। আমাদের গ্লোবাল ফ্যাক্টরি হতে হবে। বে-টার্মিনাল চট্টগ্রাম এলাকার সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এটা যখন হয়ে যাবে, তখন এই এলাকার চেহারা আমরা আশা করছি কমপ্লিটলি চেঞ্জ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বে-টার্মিনালে ২৫ হাজার লোকের যদি কর্মসংস্থান হয়, তাদের সঙ্গে ২৫ হাজার ফ্যামিলি। তার মানে আমরা তো ইজিলি বলছি, এক লাখ লোক এ এলাকায় এসে থাকা শুরু করবে, এই এলাকায় কাজ করবে। তাদের বাসস্থান, তাদের চিকিৎসা, তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং তাদের যে শিক্ষা, তাদের ফ্যামিলির এডুকেশনের যে পার্টটাÑএই পুরা এই প্ল্যানিংটাও আমাদের ওভারঅল পিকচারের মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।

চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিয়াল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, বে-টার্মিনাল হবে আসল সমুদ্রবন্দর। এখনি ১৩ মিটারের জাহাজ এসেছে পাশে। এটা যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে। ২৫ হাজার সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। এখানে চারটা টার্মিনাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে টার্মিনাল ওয়ান যেটা পিএসএ সিঙ্গাপুর করবে, টার্মিনাল টু যেটা ডিপি ওয়ার্ল্ড করবে এবং টার্মিনাল থ্রি আমরা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে করব, যারা কম্পিট করে আসতে পারে। আরেকটা টার্মিনাল আমরা এনার্জি টার্মিনাল প্ল্যানে রেখেছি। আমাদের যে ক্যাপাসিটি, প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন টিইউএস সহজে করতে পারব। এটা হয়তো ৪ দশমিক ৫ এর উপরেও চলে যাবে, যদি আমরা এখানে আরও অফডক অন্যান্য ফ্যাসিলিটিসগুলো করতে পারি। বছরের শেষদিকে গ্রাউন্ড ব্রেকিং হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে আমরা আশা করছি, অপারেশনে যেতে পারব।

এ ছাড়া গতকাল দুপুরে র‌্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। একইদিন বিকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রেস ব্রিফিং করেন বিডা ও বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।