লোকসানি বিপিসির ব্যাংকে জমা ২৭,৪৬৩ কোটি টাকা

ইসমাইল আলী: ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে টানা সাত বছর মোটা অঙ্কের মুনাফা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে গত অর্থবছর লোকসান গুনে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র সংস্থাটি। যদিও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিশাল অঙ্কের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) জমা রয়েছে বিপিসির। এর বাইরে তেল বেচাকেনার নগদ অর্থও রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে। সব মিলিয়ে বিপিসির ব্যাংক জমা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিপিসির সর্বশেষ (২০২১-২২ অর্থবছরের) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে বিপিসির ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ১৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তবে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৬২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সংস্থাটির ব্যাংক আমানত কমেছে চার হাজার ৭০২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

তথ্যমতে, গত অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ১২৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা দীর্ঘমেয়াদি আমানত জমা রেখেছে বিপিসি। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকে রয়েছে চার হাজার ২০৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকে দুই হাজার ৯৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে দুই হাজার ৫৫৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে এক হাজার ৩৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং আইসিবিতে (ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ) রয়েছে ৩৮২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ আমানতের ওপর রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সুদ দেবে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ হারে এবং আইসিবি সুদ দেবে ছয় থেকে সাত শতাংশ হারে।

যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপিসির দীর্ঘমেয়াদি আমানত জমা ছিল ১৩ হাজার ৫৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি আমানত কমেছে দুই হাজার ৪২৩ কোটি তিন লাখ টাকা।

এদিকে দেশের বেসরকারি ১৩টি ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি আমানত হিসেবে বিপিসি জমা রেখেছে এক হাজার ৮৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এবি ব্যাংকে ৪২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩৬৪ কোটি ৯৭ লাখ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২৫৯ কোটি ৪৫ লাখ, ইউনিয়ন ব্যাংকে ২০৮ কোটি ১৪ লাখ, ওয়ান ব্যাংকে ১১৬ কোটি ৯১ লাখ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ১১৫ কোটি পাঁচ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১১২ কোটি ৯৭ লাখ ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

এর বাইরে এক্সিম ব্যাংকে ৭২ কোটি দুই লাখ টাকা, মেঘনা ব্যাংকে ২১ কোটি ৯ লাখ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (বিডিবিএল) ১০ কোটি ৬৩ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ১০ কোটি ২৬ লাখ এবং ইউসিবিতে (ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক) ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি আমানত রেখেছে বিপিসি। স্বল্পমেয়াদি আমানতের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত বিডিবিএল সাড়ে পাঁচ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে। বাকি ১২টি বেসরকারি ব্যাংক সুদ দেবে ছয় শতাংশ হারে।

এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বিপিসির স্বল্পমেয়াদি আমানতের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বিপিসির স্বল্পমেয়াদি আমানতের পরিমাণ কমেছে ৯৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। গত অর্থবছর স্বল্পমেয়াদি আমানত কিছু ব্যাংকে বেড়েছে আর কিছু ব্যাংকে কমেছে। এছাড়া ৯টি ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি আমানত পুরোপুরি তুলে নিয়েছে বিপিসি। এগুলো হলোÑবাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

অন্যদিকে জ্বালানি তেল বিক্রি বাবদ গত অর্থবছর জুন শেষে সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি ৩২টি ব্যাংকে বিপিসির নগদ জমা ছিল ১৪ হাজার ৫০৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তবে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৮২২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে নগদ জমা কমেছে এক হাজার ৩১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

নগদ জমা রাখা ব্যাংকের মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, এবি, ব্র্যাক, ইস্টার্ন, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইএফআইসি, ইসলামী, যমুনা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, এনআরবি, এনআরবিসি, ওয়ান, পদ্মা, প্রিমিয়ার, প্রাইম, সাউথ বাংলা, সাউথইস্ট, দ্য সিটি, ইউসিবি, ইউনিয়ন ছাড়াও বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটিব্যাংক এনএ, এইচএসবিসি ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া রয়েছে।