Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 1:39 pm

শিশুর অধিকার: প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

সাঈদা সুলতানা: ভূমিষ্ঠকালীন ব্যক্তির প্রাথমিক পরিচয় শিশু। যৌবনপ্রাপ্ত কিংবা বয়ঃসন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেনি, এমন ব্যক্তিই সমাজ বা রাষ্ট্রে শিশু বলে পরিচিত। সচরাচর ১৮ বছরের নিচে বয়স, এমন ছেলে বা মেয়েই শিশু হিসেবে চিহ্নিত। কখনও কখনও অনাগত সন্তান অর্থাৎ যে মায়ের গর্ভে অবস্থান করছে, সেও শিশুরূপে পরিগণিত হয়ে থাকে। জীববিজ্ঞানের ভাষায় মানব সন্তানের জন্ম থেকে বয়ঃসন্ধির মধ্যবর্তী পর্যায়ের রূপ হচ্ছে শিশু। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, মাতৃগর্ভের ভ্রুণ, অ-ভূমিষ্ঠ সন্তানই শিশু।

শিশুরাই হলো পৃথিবীতে মানবজাতি রক্ষার বহমান স্রোত। নতুন শিশুর জন্ম না হলে পৃথিবী থেকে মানবজাতি হারিয়ে যাবে। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবার ও বংশ রক্ষার একমাত্র মাধ্যম নতুন শিশুর জন্ম। শিশু মা-বাবার ভালোবাসার ধন। আজকের শিশুই আগামী দিনের পরিপূর্ণ মানুষ। মা-বাবা ছাড়া পৃথিবীতে শিশু জন্ম নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। মা-বাবার ভালোবাসা ও রক্ষণাবেক্ষণে বেড়ে ওঠে শিশু, হয়ে ওঠে সমাজ, দেশরক্ষার হাতিয়ার। সামাজিকভাবে শিশুর নামে কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়; যেমন অনাথ শিশু, অবৈধ শিশু, ছিন্নমূল-পথশিশু ইত্যাদি। জন্মের পর মা-বাবা হারানো সন্তানকে অনাথ বা এতিম শিশু, বিবাহ বহির্ভূত নর-নারীর সন্তান অবৈধ, ঠিকানাবিহীন রাস্তায় বেড়ে ওঠা শিশুরা ছিন্নমূল বা পথশিশু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

মা-বাবা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভালোবাসা, বাসযোগ্য স্থান, খাদ্য এবং শিক্ষা লাভের সুযোগ শিশুর মৌলিক অধিকার। অধিকাংশ দেশেই অভিভাবকের দিকনির্দেশনায় কিংবা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক শিক্ষানীতির আলোকে শিশুরা বিদ্যালয়ে গমন করে। খুদে শিশুরা খেলার ছলে শৈশবকালীন শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলে। কিন্তু অনুন্নত দেশে প্রায়ই শিশুদের জীবনযুদ্ধে অর্থ উপার্জনে শ্রমকার্যে অংশ নিতে হয়। শিশুরা শারীরিক-মানসিকভাবে যত উন্নত হবে, দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ তত সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশুদের সার্বিক পরিস্থিতি ততটা উন্নত নয়। দারিদ্র্যের কশাঘাতে বহু শিশু বেঁচে থাকা, শারীরিক-মানসিক বিকাশ ও বিনোদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে অভাবের তাড়নায় অভিভাবকরা তাদের শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করেন। আবার ছিন্নমূল শিশুরা নিজেরাই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানা অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে তারা। শিশুদের এ অবস্থা থেকে রক্ষার আইন, সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সনদ ও প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে পরিপূর্ণ সুফল মিলছে না।

মা-বাবার ভালোবাসা শিশুর জš§গত অধিকার। বিভিন্ন কারণে মা-বাবার মাঝে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে, এতে শিশুর জন্য এ ভালোবাসা হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। বিচ্ছেদের পর বেড়ে উঠতে হয় মা কিংবা বাবার একক ভালোবাসায়। অনেক ক্ষেত্রে উভয়ের ভালোবাসা থেকেই বঞ্চিত হতে হয় শিশুকে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য বা তৃতীয় পক্ষের দায়িত্বে বেড়ে উঠে শিশু, শিকার হয় লাঞ্ছনার, স্বজনহীন নির্দয় এক পরিবেশই হয়ে উঠে শিশুটির একমাত্র ঠিকানা। শিশু অধিকার, শিশু সনদ সেখানে অর্থহীন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ১৭ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদ বেড়েছে। ২০২০ সালে দুই সিটিতে ১২ হাজার ৫১৩টি ডিভোর্সের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ৪ হাজার ৫৬৫টি বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে (সূত্র-২৬ জুন, ২০২১ কালের কণ্ঠ)। ব্যাপক হারে বিচ্ছেদের ঘটনায় অসহায় শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ কমিয়ে আনা, যাতে শিশুরা তাদের জš§গত অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।

বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে একক পরিবার বাড়ছে। যৌথ পরিবারে কিছু সুবিধা থাকে, একক পরিবারে তা হয়ে ওঠে না। যৌথ পরিবারে শিশুর সমস্যায় সবাই এগিয়ে আসে, শিশুরা একাকিত্বে ভোগে না, লালন-পালন সমস্যা হয় না, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, খেলাধুলার পরিবেশ থাকে, মিলেমিশে থাকার মানসিকতা তৈরি হয়। একক পরিবারগুলোয় স্বামী কিংবা স্ত্রী, অনেক ক্ষেত্রে উভয়কেই কাজ করতে হয়। শিশুরা একাকিত্বে ভোগে, বেড়ে ওঠে কাজের মানুষ বা নিকট আত্মীয়ের তত্ত্বাবধানে। সঠিক যতœ নেয়া সম্ভব হয় না, সৃষ্টি হয় তাদের নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের যৌন হয়রানিরও শিকার হতে হয়। কিছু কিছু পরিবার ডে-কেয়ার সেন্টারের সহায়তা নিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টারের অপ্রতুলতায় এর সহায়তা নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

পাড়া-মহল্লায় খেলার মাঠগুলো ক্রমেই কমে আসছে। বিনোদন কেন্দ্র যা আছে, তাও অপ্রতুল। অথচ খেলাধুলার পরিবেশ ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো শিশুর শারীরিক ও মানসিক গঠনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলার পরিবেশ ও বিনোদন কেন্দ্র তৈরির ব্যবস্থা করা জরুরি।

শিশুদের নিয়ে উদযাপিত একটি দিবস হলো ‘শিশু দিবস’। এ বছর শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য (বাংলা)- ‘বঙ্গবন্ধুর জš§দিনের অঙ্গীকার, সকল শিশুর সমান অধিকার’। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে শিশু দিবস পালিত হয়ে থাকে। প্রথমবার ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল তুরস্কে শিশু দিবস পালিত হয়েছিল। জাতিসংঘ ১৯৫৪ সালের ২০ নভেম্বর দিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বিভিন্ন দেশে ২০ নভেম্বরকে বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। আবার আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন ১ তারিখে উদযাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে নিজস্ব নির্দিষ্ট দিন আছে শিশু দিবসটিকে উদযাপন করার। বাংলাদেশে, ১৯৯৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চকে শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয়। শিশু দিবসগুলোতে শিশুদের অধিকার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, বাস্তবায়নে কাজও করা হয়। তারপরও সঠিক তদারকির অভাবে পরিপূর্ণ শিশু অধিকার বাস্তবায়ন হয় না বিশ্বজুড়েই। বাংলাদেশেরও এ ক্ষেত্রে অনেক কাজ করার আছে।

ষোড়শ শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডে মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৩৫ বছর। এর প্রধান কারণ ছিল জন্মগ্রহণকারী দুই-তৃতীয়াংশ শিশু ৪ বছর বয়সের পূর্বে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের সময়কালে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে শিশুদের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছিল। জনসংখ্যার সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুমৃত্যুর হার ১৯৯০-এর দশক থেকে বেশ কমতে শুরু করে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৫ বছরের কমবয়সী শিশুমৃত্যু ৪২ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে সার্বিয়া এবং মালয়েশিয়ায় এ হার ছিল প্রায় ৭০%। দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে অপুষ্টিজনিত কারণে ভবিষ্যৎ প্রজš§ হিসেবে পরিচিত শিশুরা বিশ্ব ব্যাংকের জরিপে বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে, যা মোটেই কাক্সিক্ষত নয়।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত দুই দশক ধরে দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে নগরায়ণ। দুর্যোগের পাশাপাশি কাজের সন্ধানে শহরে আসে গ্রামের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা মতে, ৩০ বছর পর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই বাস করবে শহরে। বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু নবজাতক শিশুদের মৃত্যুর উচ্চ সংখ্যা শীর্ষক তালিকায় শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। হ্রাস পেয়েছে খর্বকায়ত্ব কমিয়ে আনার হার। সবার জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত এখনও সম্ভব হয়নি। স্যানিটেশন ব্যবস্থার অনেক উন্নতি সত্ত্বেও, সুরক্ষিত টয়লেট ও হাত ধোয়ার সুবিধা পাচ্ছে না অনেকেই। এর সঙ্গে আছে পুষ্টি, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা। প্রশিক্ষণের অভাবে শিশুদের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা শনাক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্কুলে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য টয়লেট সুবিধা নেই। মেয়েশিশুরা নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানির কারণে মাঝে মধ্যে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে অনেক ঘাটতি। শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত আছে ১৭ লাখ শিশু। যদিও সরকার এসব ক্ষেত্রেই উত্তরণের লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার আগের তুলনায় কমেছে। আরও অধিক সফলতার লক্ষ্যে বয়ঃসন্ধিকাল পেরোচ্ছেÑএমন শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও তাদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু বা শিশু অপরাধীদের নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে সংবেদনশীলতার প্রয়োজন। শিশুদের সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজন জরুরি বিনিয়োগ। এর আওতায় আনতে হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের, যদিও সরকার এ বিষয়ে যতœবান এবং লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘সার্ভিসেস ফর দ্য চিলড্রেন এট রিস্ক’ নামে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী, শিশু ও যুবসম্প্রদায় কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নীতিগুলোর দাবি এবং উপযুক্ত সেবাপ্রাপ্তির মাধ্যমে নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ ও পাচার বিলোপ সাধনে সক্ষম করা এবং প্রকল্পের স্বল্পমেয়াদি উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রমে দরিদ্র এবং নির্যাতিত পরিবারের নারী, শিশু ও যুবসম্প্রদায়ের অভিগম্যতার উন্নতি সাধনের মাধ্যমে নির্যাতন, সহিংসতা এবং শোষণের প্রকোপ কমিয়ে আনা। শিশু অধিকার সনদ ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনি কাঠামো এবং বিশেষ শিশু নীতি গ্রহণ ও দেশের সকল শিশু, বিশেষ করে দুস্থ শিশুদের কল্যাণ সাধন করা। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন এবং শোষণ প্রতিরোধকল্পে ইতিবাচক ও সহায়ক সামাজিক আদর্শের অনুশীলন, উন্নয়ন ও সুদৃঢ় করাও প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান কাম্য।

সার্ভিসেস ফর চিলড্রেন এট রিস্ক প্রকল্পটি দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে স্থাপিত ‘শেখ রাসেল ঝুঁকিপূর্ণ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের’ মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সেবা প্রদান করছে। সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছেÑআশ্রয়, পোশাক পরিচ্ছদ, বিছানাপত্র, স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক সহায়তা, সামাজিক পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন করা। এছাড়া সরকারের ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

২০১৭ সালের এপ্রিলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী লিঙ্গ অসমতা দূর করে নারী ও শিশুদের উন্নয়নের পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। [সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন]

২০১৩ সালে কার্যকর হওয়া শিশু আইন, দেশের সব জেলায় শিশু আদালত গঠনের বিধান রেখে সংসদে শিশু আইন সংশোধন বিল ২০১৮ পাস হয়েছে। দায়রা আদালতে যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারে, আইন সংশোধনের ফলে শিশু আদালতও সে ক্ষমতার অধিকারী হলো। শিশুদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে তাদের জাতি গঠনের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশংসাযোগ্য।

শিশুকে আমরা যে নামেই চিহ্নিত করি না কেন, একটি মানবশিশু জšে§র মাধ্যমেই পৃথিবীতে তার কিছু অধিকার সৃষ্টি হয়, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব একসময়ের শিশু থেকে বেড়ে ওঠা পরিপূর্ণ মানুষ ও মানুষ দ্বারা পরিচালিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘ছাড়পত্র’-এ যথার্থই লিখেছেনÑ‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান, জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ পিঠে, চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাবÑতবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সবার জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন শিশু যদি পরিপূর্ণ অধিকার ভোগ করতে পারে, তবেই আগামী দিনে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সব ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণতা পাবে এবং কবি সুকান্তের রেখে যাওয়া অঙ্গীকারও আমরা বাস্তবায়ন করে সব শিশুর অধিকার নিশ্চিত তাদেরই জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে পারব নিশ্চয়ই।

পিআইডি নিবন্ধ