Print Date & Time : 19 April 2026 Sunday 2:26 am

শীতকালে সন্ধির ব্যথা

শীতকালে বয়স্ক ও বাতব্যথার রোগীদের চলাফেরার স্বাভাবিক ছন্দ ও গতি নষ্ট হয়। সেইসঙ্গে ব্যথার কষ্ট বাড়ে।
কারণ: শীতে বায়ুর চাপ কম থাকে বলে অস্থি বা জয়েন্টের আশপাশের টিস্যুগুলো ফুলে যায়, ফলে অস্থি জমে যায়। তখন ব্যথার উদ্রেক করে; ঠান্ডার প্রকোপে রক্তনালির সংকোচন হলে অস্থি, পেশি ও হাড়ে রক্ত চলাচল আগের চেয়ে বেশ কমে যায়, এতেও ব্যথাবেদনা বাড়ে। শীতে স্নায়ুর সহ্যক্ষমতা কম থাকে ও অল্পতেই সংবেদনশীল হওয়ার ফলে ব্যথার অনুভূতি বেড়ে যায়। শীতকালে ঘাড়, কোমর ও হাঁটুতে ব্যথা বেশি বাড়ে। এ ছাড়া গোড়ালি, কাঁধ, কনুই ও কবজি জমে এসব স্থানে ব্যথা হতে পারে। এতে হাত সামনে-পেছনে নেয়া ও কিছু তোলাও কষ্টকর হয়। হাঁটু ও কোমর সোজা অবস্থা থেকে ভাঁজ করতে এবং বসতে-উঠতে ভীষণ অসুবিধা হয়।

প্রতিরোধ: কুসুম গরম পানির সেঁক (ময়েস্ট হিট) এ ধরনের ব্যথায় খুবই কার্যকর; ব্যথানাশক জেল বা মলম দিয়ে হালকাভাবে সন্ধিতে ম্যাসাজ করলে ব্যথা নিরাময় হবে। ব্যথা নিরাময়ে সন্ধিতে ইনজেকশন (স্টেরয়েড ও হায়ালুরোনিক অ্যাসিড) পুশেরও প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে। যথেষ্ট গরম কাপড় পরতে হবে এবং ঠান্ডা থেকে হাড়জোড়াকে রক্ষা করতে হবে। একই অবস্থায় (বসা, দাঁড়ানো) আক্রান্ত সন্ধিকে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা বা হাঁটার সময় প্রয়োজনে হাতে স্টিক, পায়ে কুশনযুক্ত জুতা এবং গোড়ালি, হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কাঁধ, কনুই ও কবজিতে সাপোর্ট বা ব্রেস ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম সন্ধিব্যথা উপশমে বেশ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে শীতকালে কঠিন ব্যায়াম আক্রান্ত সন্ধিতে রক্ত চলাচল কমিয়ে ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। সন্ধির স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং পেশি, টেনডন ও লিগামেন্টের নমনীয়তা সন্ধিকে ব্যথামুক্ত রাখে। শীতকালে সতেজ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত। গাজর, শসা, মুলা ইত্যাদি সবজি প্রদাহবিরোধী। ফলের রস সেবনও সন্ধি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। সকালে খালি পেটে রসুন খেলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে বলে ব্যথা অনেকাংশে কম অনুভূত হয়। আদা ও লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও রাতে সেবন করলেও ব্যথা কমে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি, এ ও সি গ্রহণ করতে হবে। রোজ কিছুক্ষণ রোদে সময় কাটাতে হবে। এরপরও ব্যথার উপশম না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।