ঘন কুয়াশার প্রকটি প্রবাহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পর্যন্ত ওই ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয় থার্মোমিটারের পারদ ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নেমে গিয়ে দেশের আট অঞ্চলে শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, শীতের এই দাপট কালও থাকতে পারে। তবে দুপুরে রোদ বেড়ে শীত কিছুটা কমতে পারে। বিকালে হিমেল বাতাস বেড়ে আবারও শীত বেশি অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি হচ্ছে দেশের শীতলতম মাস। এ সময়ে সাধারণত দিনের বেলায় যে তাপমাত্রা থাকে, তার চেয়ে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম তাপমাত্রা থাকছে দুই দিন ধরে। অর্থাৎ শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।
দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রমজীবীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাদের তো কাজে যেতেই হবে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই ঋতুর পালাবদল ঘটে। প্রকৃতির আচরণ নিয়ন্ত্রণের সাধ্য মানুষের নেই। ফলে শীত হতদরিদ্রদের অসহায়ত্তকে আরও প্রকট করে তোলে। হিমেল হাওয়া ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য হতদরিদ্র অনেক মানুষেরই নেই ন্যূনতম শীতবস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপথ্য, উপযুক্ত আবাসস্থল। অসহনীয় শীতে তাদের কাউকে খোলা আকাশের নিচেও রাত যাপন করতে হয়। এ অবস্থায় অবস্থাসম্পন্ন মানুষকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। ওই হতদরিদ্ররা প্রশাসন কিংবা সরকারের কাছে দুঃখকষ্টের কথা জানাতেও পারে না। সমাজকর্মীরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেন। নিঃস্বার্থভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করাই মানবধর্ম। যাদের সামর্থ্য আছে তারা অবশ্যই বেশি সংখ্যক মানুষকে সহায়তা করবেন। নিদেন পক্ষে প্রত্যেকে অন্তত একজন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
তীব্র শীতের প্রকোপে নিদারুণ কষ্ট ও দুঃসহ অবস্থায় পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে দেশের লাখ লাখ দুস্থ, নিঃস্ব, ছিন্নমূল, গরিব, দুঃখী, বস্ত্রহীন শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। এ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন সুচিকিৎসা, ওষুধপথ্য এবং শীত মোকাবিলায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে শিশুরা গণহারে গুরুতর শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে শীতের দুর্ভোগে মৃত্যুর হারও বাড়বে। তীব্র শীত নিবারণে দুর্গত অঞ্চলে রাষ্ট্রীয়ভাবে, সাংগঠনিকভাবে শীতবস্ত্র বা গরম কাপড়, ওষুধপথ্য সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ীসহ সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক সংস্থা ইচ্ছা করলে নিজ এলাকার শীতার্ত অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ এবং পাঠাতে পারেন। প্রত্যেক সংবেদনশীল ও মানবিকতা বোধসম্পন্ন মানুষেরই উচিত বিপদগ্রস্তকে যথাসাধ্য সাহায্য করা। সবাই নিজ অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।