শেয়ার বিজ ডেস্ক: খাদ্য ও জ্বালানি তেলের সংকটজনক পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমন করতে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এরই মধ্যে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার।
তবে এ জরুরি অবস্থা ও কারফিউর মধ্যেই বিক্ষোভ করতে গতকাল রাস্তায় নেমে আসেন বিরোধী দলের শতাধিক আইনপ্রণেতা। তারা বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসার বাড়ির সামনে থেকে মিছিল নিয়ে রাজধানীর ইনডিপেনডেন্স স্কয়ার অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেনাসদস্যরা তাদের থামিয়ে দেন।
এরই মধ্যে কারফিউ ভাঙার অভিযোগে ৬৬০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।
নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা। অর্থনৈতিকভাবে ভুগতে থাকা দেশটিতে খাবার ও জ্বালানির জন্য আন্দোলন শুরু করেছে সাধারণ নাগরিকরা। আন্দোলন এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এরই মধ্যে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে।
স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। বিদেশি মুদ্রার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। দাম পরিশোধ করতে না পারায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ থেকে শুরু করে সিমেন্ট পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। লোকজনকে
জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। কাগজের অভাবে স্কুলের পরীক্ষা ও দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংকটে এমনকি সড়কবাতিও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারফিউ জারি করা এক নোটিসে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সড়কে, পার্কে, ট্রেন স্টেশনে, সমুদ্র উপকূলে ও সড়কে চলাচল না করতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম। তবে কারফিউ উপেক্ষা করে সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে রাস্তায় অবস্থান করছেন সেনাসদস্যরা।




