আন্দামান সাগরের লঘুচাপটি নিন্মচাপ থেকে গভীর নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে। গতকাল দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি গত মধ্যরাতেই ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার কথা। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। নি¤œচাপের প্রভাবে আজ দেশের ছয় বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে। আর গভীর নি¤œচাপের কারণে দেশের তিন সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গভীর নি¤œচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘সিত্রাং’। নি¤œচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকেই এগিয়ে আসছে। এ ছাড়া নৌকা ও ট্রলারকে মাছ ধরার নৌযানগুলাকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুতি নিতে হবে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সতর্ক হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ঘনবসতি প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় থেকে এ পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ২০০ দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি থাকায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমাদের সাফল্যের মূলে রয়েছে স্থানীয়ভাবে বিন্যস্ত শক্তিশালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দুর্যোগে সাড়াদান এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারে সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ সাড়াদান কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করায় জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ, আসন্ন দুর্যোগের কবল থেকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণের জন্য বেতার, টেলিভিশন এবং স্থানীয়ভাবে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে, প্রচারের পাশাপাশি দ্রুত ও অধিকতর কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ইন্টার-অ্যাক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) চালু করা হয়েছে। মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ১০৯০ (টোল ফ্রি) নম্বরে ডায়াল করে দুর্যোগের আগাম বার্তা পেয়ে সাধারণ মানুষ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। মনে রাখতে হবে দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং শ্রমজীবীদের মধ্যে কৃষক। এসব মানুষ যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় সে জন্য সচেতন নাগরিকদের উচিত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণকার্য যাতে যথার্থভাবে পরিচালিত হয়, সে ব্যাপারে সাহায্য করা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সচেতন ও আগাম প্রস্তুতি থাকলে জানমালের ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলেই আমরা মনে করি।




