Print Date & Time : 29 August 2025 Friday 11:53 am

সদরঘাটে নেই যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ

নজরুল ইসলাম: পদ্মা সেতু চালুর পর এবার ঈদযাত্রায় রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কিছুটা কমেছে। যাত্রীরা ধীরে-সুস্থে লঞ্চে উঠছেন। কোনো হুড়োহুড়ি নেই। তবে লঞ্চগুলোর নির্ধারিত আসনসংখ্যার সমান যাত্রী দেখা গেছে। বিকালে যেসব লঞ্চ ছাড়ার কথা, সেসব লঞ্চ বেলা ২টার মধ্যে যাত্রীতে পূর্ণ হয়েছে। গতকাল যাত্রীরা সকাল ১১টা থেকেই লঞ্চে এসে ডেকে বসা শুরু করেন। অন্যবারের মতো অতিরিক্ত চাপ ছিল না। তবে লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গার্মেন্ট ছুটি হলে যাত্রী আরও বাড়বে।

বড়গুনার আমতলীতে যাওয়ার জন্য লঞ্চের ডেকে বসেছিলেন আবুল কালাম নামে এক বয়স্ক ব্যক্তি। তার কাছে জানতে চাইলাম, বাসে না গিয়ে লঞ্চে যাচ্ছেন কেন? তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু তো টাকাওয়ালাদের জন্য। যাদের গাড়ি আছে, তারা যাবে। আমাদের লঞ্চেই আরাম।’

বরগুনার তালতলী উপজেলায় যাচ্ছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মহিবুল। তিনি সোফা সিটের একটি টিকিট নিয়েছেন। মূল্য এক হাজার টাকা। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সায়েদাবাদ থেকে তিনটি পরিবহন কোম্পানির বাস দিনে মাত্র একবার ছেড়ে যায়। সেখানে গিয়ে টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই লঞ্চে যাচ্ছেন তিনি। লঞ্চ ভোরবেলায় ঘাটে নামিয়ে দেবে। আর বাসে গেলে গভীর রাতে নামাবে, তখন বাড়িতে পৌঁছাতে ঝামেলা পোহাতে হয়। যারা বিকালে রওনা হন, তারা বেশিরভাগই লঞ্চে ভ্রমণ করেন।’

আটজনের জন্য একটি কাঁথা বিছিয়ে লঞ্চের ডেকে বসে অপেক্ষা করছেন নির্মাণশ্রমিক শাহ আলম। তার কাছে জানতে চাইলাম, বাসে না গিয়ে লঞ্চে কেন যাচ্ছেন? তিনি শেয়ার বিজকে বললেন, ‘লঞ্চেই আরাম। খাওন (খাওয়া) যায়, হোতন (শোয়া) যায়, আঁডা-চলা (হাঁটাহাঁটি) করা যায়; টয়লেট সারা যায়। বাসে জীবনেও যামু না!’ তিনি জানান, বরিশাল সদরের যাত্রী এবার কমেছে। ভাড়া কমালে যাত্রী আরও বাড়বে। ডেকে গত ঈদে জনপ্রতি ৩৫০ টাকা করে নিয়েছিল। এবার নিচ্ছে ৪৫০ টাকা।

শতাব্দী বাঁধন লঞ্চের সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি ট্রিপে আসা-যাওয়ায় পাঁচ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। তাদের খরচ উঠছে না। তবে এ প্রতিবেদক বেলা ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। বেলা ২টার মধ্যেই যাত্রীতে ডেকের অংশ ভরাট হয়ে গেছে। কেবিনও ফাঁকা নেই বলে লঞ্চের কর্মীরা বলাবলি করছিলেন। লঞ্চটি বিকাল ৫টায় ছাড়ার কথা। 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক মামুন-অর-রশিদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘লঞ্চে ডেকের যাত্রী কমবে না। গার্মেন্ট ছুটি হলে আরও বাড়বে। বাসকে আমরা হুমকি মনে করি না। নতুন অবস্থায় অনেকেই পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি যাচ্ছেনÑদেখার জন্য, বোঝার জন্য। আমাদের বিশ্বাস কিছুদিন পর ঘরের ছেলে (লঞ্চযাত্রী) ঘরেই ফিরে আসবে।’ তিনি গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে যানজট নিরসনের দাবি জানান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক শহিদ উল্লাহ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে আমরা কাজ করছি। যাত্রীর চাপ অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। যাদের টাকা আছে, তারা ব্যক্তিগত গাড়িতে পদ্মা সেতু হয়ে যাচ্ছেন। ভিআইপি যাত্রী কমেছে।’