নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মানুষ জেগে উঠেছে। আমি গতকাল নোয়াখালী গিয়েছিলাম; সাধারণ মানুষের কী ঢল, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের ঢল! আজ তরুণরা জেগে উঠছে। পেশাজীবী, মেহনতি মানুষ জেগে উঠছে। এখন আপনাদের জেগে উঠতে হবে, নেতৃত্ব দিতে হবেÑএটাই হচ্ছে জাতির প্রত্যাশা। আপনারা সবাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসুন, কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসুন। রাস্তায় নামুন, মানুষকে নামতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং রাস্তায় নেমে জনগণের শক্তির মধ্য দিয়ে আমরা এদের পরাজিত করব।’
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে একটি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ মামলা দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আপস? এর অধীনে নির্বাচন? আমাদের সামনে কোনো পথ নেই। আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য বেরিয়ে আসতে হবে। এই ডাক বিএনপির একার ডাক নয়, সব মানুষের ডাকে পরিণত হয়ে গেছে। এক দফা এক দাবি।’
তিনি বলেন, ‘শিয়ালের কাছে কয়বার মুরগি জমা দেয়া যায়? আমরা তাদের কথায় নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমাদের ২৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করল! আমাদের বিরুদ্ধে দেয়া হলো ময়লার গাড়ি পোড়ানোর মামলা! তারা পুরোনো মামলায় সাজা দিতে চাচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সাজা ঘোষণাও করা হয়েছে।’
আজকে ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে রেখেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি অসহায় বোধ করি বিচার ব্যবস্থার কাছে। আজ শুধু জুডিশিয়াল ক্রাইমের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। হাইকোর্ট যে রায় দেয় লোয়ার কোর্ট সেটি বাতিল করে দেয়। আমরা যাব কোথায়? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী খাদিজাতুল কোবরার জামিন বাতিল করেছে। তার কী অপরাধ? শুধু ইউটিউবে একটি অনুষ্ঠানে অ্যাংকরিং করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমাদের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। বেরিয়ে আসতে হবে। এই সরকার টিভিতে তাদের উন্নয়ন প্রচার করছে। আর সাধারণ গরিব মানুষের ঘরে চাল নেই। এ যেন গায়ে কোট, তবে পায়ে স্যান্ডেল নেই। জনগণকে তারা উন্নয়ন নিয়ে বিভ্রান্ত করছে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-অত্যাচার আওয়ামী লীগের জন্য ‘সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে’ মন্তব্য করে দলের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন এই ভিসানীতি-টিতি কী আছে না আছে, এগুলো আমরা দেখতে চাই না। এগুলো তারা দেখবে, তাদের দেখার দায়িত্ব। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, আমাদের নিজেদের জনগণের শক্তিতে আন্দোলন করছি। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এই আন্দোলন দেশকে রক্ষা করার আন্দোলন। এই আন্দোলন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য, আমাদের সত্যিকারের সংবিধান, তা আবার জনগণের সংবিধানে পরিণত করার আন্দোলন। এই আন্দোলন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আন্দোলন। এই আন্দোলন আমার বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করার, গণমাধ্যকে স্বাধীন করার, মানুষের মুক্তির পথকে আরও প্রশস্ত করার এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আন্দোলন।’
সমাবেশ শেষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার নেতারা অংশ নেন।
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে এবং বিএসপিপির সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরীর পরিচালনায় পেশাজীবী সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএসপিপির আহ্বায়ক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম, ডা. আবদুল কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া ও প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ।