সম্ভাবনার পরও চীনে বিলেট রপ্তানি হচ্ছে না

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: কভিডকালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের বিলেট রপ্তানি করে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি পঞ্চম দফায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ইস্পাত পণ্য রপ্তানি করেছিল। মূলত মানসম্মত বিলেট আমদানি করে বড় অর্থনীতির দেশ চীন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক্ষেত্রে সরকারি প্রাণোদনা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে বিশ্ববাজারে ইস্পাতের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া এবং স্থানীয় চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। ফলে সম্ভাবনার পরও ইস্পাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।
জিপিএইচ ইস্পাত সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কোয়ান্টাম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসের স্টিল মিল স্থাপন করে তারা। এটি এশিয়া মহাদেশে এ প্রযুক্তির প্রথম কারখানা। এ কারণে জিপিএইচ ইস্পাতের আভ্যন্তরীণ বাজার ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্য নজর কাড়ে। গত বছরের অক্টোবরে চীনের ম্যাক স্টিল ইন্টারন্যাশনাল বিলেট কেনার চুক্তি করে। এরপর আরেকটি চীনা কোম্পানি চিনোট্রাস্টের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে ২০২২ সালে ৪৫ হাজার টন বিলেট রপ্তানি করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিলেট রপ্তানি করে। একই খাতের কোম্পানি বিএসআরএমও ভারতে এমএস রড রপ্তানি করে।
জানা যায়, বাংলাদেশে বিভিন্ন অপ্রচলিত পণ্য বিশেষ করে স্টিল, শিপ বিল্ডিং, কেমিক্যাল, রিফাইনারির উন্নতমানের পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে প্রস্তুত। যদিও ২০০৭ সালে শিপ বিল্ডিং সেক্টরের মাধ্যমে দেশের ভারী শিল্পপণ্যের রপ্তানি শুরু হয়। গত ১৩ বছরে এ খাতে মাত্র ১২ কোটি ডলার পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ইস্পাতশিল্পে কভিডকালে প্রায় সাত কোটি ডলার (৬০৩ কোটি টাকা) রপ্তানি হয়েছে। এতে জিপিএইচ ইস্পাত এক্সপোর্ট বাস্কেটে নতুন মাত্রা সংযুক্ত করে। বাংলাদেশ থেকে একসঙ্গে এত বড় চালান এর আগে কখনও রপ্তানি হয়নি। অপরদিকে ইস্পাত খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টিল
রি-রোলিং মিলস লিমিটেড ২০২০ সালে ৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ইস্পাত পণ্য বিদেশে
রপ্তানি করে।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও ব্যবসা উন্নয়ন) কামরুল ইসলাম এফসিএ শেয়ার বিজকে বলেন, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে জাহাজভাড়া বেশি, চীনের বাজারে বিলেটের চাহিদা কমে যাওয়া, সরকারের প্রাণোদনায় তেমন কার্যক্রম না হওয়ায় চীনে বিলেট রপ্তানি বন্ধ হয়েছে। আর দেশের চাহিদা পূরণে মনোযোগী হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আমাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৩০ শতাংশ অব্যবহƒত রয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার রপ্তানি খাতকে অনুপ্রাণিত করার জন্য বিভিন্ন খাতে অ্যাওয়ার্ড ও ক্যাশ ইনসেন্টিভ দিচ্ছে। তাই বিলেট রপ্তানিতে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীনের তাংসেন শহর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশে ইস্পাত উৎপাদনে বিধিনিষেধের কারণে জাতীয় উৎপাদনে নি¤œমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশটির প্রপার্টি খাতে টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে ইস্পাতের চাহিদা কমে গিয়েছিল। ফলে এটির উৎপাদনে মুনাফা মার্জিনও নিচে নেমে আসে। এ কারণেই মূলত মিলগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল।