চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) যন্ত্রটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসেবে পরিগণিত। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক রোগ নির্ণয়ে এমআরআইয়ের ব্যবহার অনস্বীকার্য। যেমন- রোগনির্ণয়ের অত্যাধুনিক একটি পরীক্ষা পদ্ধতি এমআরআই। শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গের স্পষ্ট ছবি পেতে এই পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে সেই অঙ্গের যেকোনো অস্বাভাবিক অবস্থা বা নির্দিষ্ট কোনো রোগ খুব সহজেই নির্ণয় করা যায়। মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হƒৎপিণ্ডসহ দেহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের যেকোনো সমস্যা নির্ণয় করতে এমআরআই একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। এর মাধ্যমে যেসব রোগ নির্ণয় করা যায়- টিউমার, স্ট্রোকসহ মস্তিষ্কের অন্যান্য রোগ; মেরুদণ্ডের রোগ বা আঘাত; হাঁটু, গোড়ালি, কবজি, কাঁধ ইত্যাদি অস্থিসন্ধি, হাড় ও মাংসপেশির সমস্যা; রক্তনালির রোগ; নাক, কান, গলা ও চোখের সমস্যা; প্রোস্টেটের সমস্যা; ক্যানসার; নারীদের তলপেট ও স্তনের অস্বাভাবিকতা এবং লিভার, কিডনি, পিত্তনালিসহ বিভিন্ন আন্ত্রিক রোগ। এখানে যেসব রোগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এর বাইরেও অনেক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এমআরআই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেগুরুত্বপূর্ণ, তা চিকিৎসকদের চেয়ে কে বেশি বুঝবেন!
দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত যন্ত্রপাতি নেই কিংবা থাকলেও নানা কারণে সেগুলো ব্যবহার করা যায় না। ফলে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা দেয়াও সম্ভব হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাধারণ মানের কোনো হাসপাতাল নয়। এটি বিভাগীয় পর্যায়ের একটি বড় হাসপাতাল। গতকাল একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে হাসপাতালটির একমাত্র এমআরআই যন্ত্র ঠিক করতে ৪২ বার চিঠি চালাচালি করার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর ধরে অচল পড়ে আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অতি গুরুত্বপূর্ণ এমআরআই যন্ত্র। এ যন্ত্রের সমস্যা সারাতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চার বছরে ৪২ বার চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতবার চিঠি দেয়ার পরও ঘুম ভাঙেনি প্রশাসনের।
এদিকে বছরের পর বছর যন্ত্রটি নষ্ট থাকায় প্রতিদিন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক রোগী। সরকারিভাবে মাত্র ৩ হাজার টাকায় যে এমআরআই পরীক্ষা চমেকে করানো যায়, বেসরকারি হাসপাতালে সেটি করতে গুনতে হয় ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা, যা একজন স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। এ পর্যন্ত একাধিক টিম যন্ত্রটি দেখে গেলেও হয়নি সমস্যার সমাধান। এখন এটি সচলে প্রয়োজন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্যাটারি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেটি চীন থেকে এসেছে, এখন অপেক্ষা প্রতিস্থাপনের। ১৯৭৮ সালে আলমা-আটা ঘোষণায় সই করা দেশগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্য উপচে পড়ছে। বৈশ্বিক স্বীকৃতিও রয়েছে বেশ। স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু আদৌ কি আমাদের স্বাস্থ্যসেবা মানসম্মত! একটি সর্বশেষ মডেলের অত্যাধুনিক এমআরআইয়ের দাম ১০ কোটি টাকার বেশি। চিকিৎসাসেবার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের উচিত সব সরকারি হাপাতালের অপরিহার্য যন্ত্রগুলো ব্যবহারযোগ্য করতে তুলতে ক্রাশপ্রোগ্রাম গ্রহণ করা।
