প্রতিনিধি, কক্সবাজার: মিয়ানমারে বিভিন্ন সময় আটকা পড়া ৪১ বাংলাদেশি সাজা শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত এসেছেন। ফেরত আসা এসব বাংলাদেশি কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। কক্সবাজারের টেকনাফ জেটিঘাটে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার।
শেখ খালিদ বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) হাতে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে বাংলাদেশি নাগরিকরা আটক হন। মিয়ানমার সেদেশের কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে ৪১ বাংলাদেশি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে। মিয়ানমারের সিটওয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলেট এক বছর ধরে প্রক্রিয়া চালানোর পর বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার সিদ্ধান্ত হয়।
সকাল পৌনে ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মিয়ানমারের মংডুতে বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। এতে বিজিবির পক্ষে শেখ খালিদের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও বিজিপির ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাও নাং ইয়াং সোর নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয় বলে জানান শেখ খালিদ।
তিনি বলেন, পতাকা বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সীমান্তে মাদকপাচার, মানবপাচার, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে আলোচনা শেষে দেশটির কারাগারে সাজাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া ৪১ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেলা সাড়ে ৩টায় নাফ নদীর টেকনাফ জেটিঘাট দিয়ে বিশেষ ট্রলারে করে ৪১ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত আনা হয় বলে জানান শেখ খালিদ।
তিনি বলেন, টেকনাফের ইউএনও, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশের সহায়তায় ফেরত আনা বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদের স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।