সাড়ে তিন মাসে কভিডে সর্বোচ্চ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিডে গত এক দিনে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে মোট ২৮ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যুর খবর সরকারের খাতায় এসেছে। এক দিনে মৃত্যুর এই সংখ্যা সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক দিনে এর চেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছিল সবশেষ ৯ অক্টোবর, সেদিন ২১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কভিডের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে এক দিনে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারেরও রেকর্ড হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ হাজার ৪৪০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এর আগে ২০২১ সালের ২৪ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা এতদিন সর্বোচ্চ ছিল।

তার আগে মহামারির শুরুতে ২০২০ সালের ৮ মার্চ যখন প্রথম দেশে কভিড রোগী ধরা পড়ল, সেদিন সাতজনের নমুনা পরীক্ষা করে তিনজনের কভিড শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শনাক্তের হার ছিল ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় সেটি রেকর্ডে ধরা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশে আরও ১৫ হাজার ৪৪০ জনের শরীরে কভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে টানা চার দিন দৈনিক ১৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হলো।

মঙ্গলবার ১৬ হাজার ৬৬ জন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল, যা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বুধবার ১৫ হাজার ৫২৭ জন এবং বৃহস্পতিবার ১৫ হাজার ৮০৭ জনের শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের সময়, গত বছরের ২৮ জুলাই ১৬ হাজার ২৩০ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল, মহামারির মধ্যে সেটাই সর্বোচ্চ।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭১ জনে। এছাড়া সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে সেরে উঠেছেন এক হাজার ৩২৬ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩৬০ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে পুরুষ আটজন আর নারী ১২ জন। তাদের নিয়ে দেশে কভিডে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ৮৮ জন, নারী মারা গেলেন ১০ হাজার ২২০ জন।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের। এ বয়সের মারা গেছেন সাতজন। এরপর ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন, ১১ থেকে ২০ আর ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন দুজন করে আর শূন্য থেকে ১০ বছর, ২১ থেকে ৩০ বছর, ৬১ থেকে ৭০ বছর আর ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন একজন করে।

মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৯ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন পাঁচজন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে মারা গেছেন দুজন করে আর বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন একজন করে। তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে আর বাকি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে।