সালথায় ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

প্রতিনিধি, ফরিদপুর : ফরিদপুরের সালথায় ইতি আক্তার (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি বিয়ের প্রলোভনে নিহত ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে নিজেদের বসতঘরের আড়া থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইতি সিংহপ্রতাপ গ্রামের দিনমজুর মো. সিদ্দিক বিশ্বাসের একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

নিহতের পরিবার ও সালথা থানা পুলিশ জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা। ইতির মা প্রবাসে থাকে আর বাবা-ভাই জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দিনমজুরের কাজ করেন। গত ১৪ মার্চ ইতি বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে বখাটে সোহেল মেয়েটির বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বাবা সিদ্দিক বিশ্বাস বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সালথা থানায় মামলা করেন। মামলার পর গত ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে পটুয়াখালী থেকে অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। বর্তমানে অভিযুক্ত সোহেল কারাগারে রয়েছেন।

ইতির পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত সোহেল গ্রেপ্তার হওয়ার পরও উভয় পরিবার মীমাংসার চেষ্টা করে। তবে ইতিকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত সোহেলের পরিবার, যে কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল ইতি। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।

সালথা থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, ধর্ষণের শিকার ইতির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে ইতি আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।