সিংহভাগ কোম্পানির দরপতনেও বড় মূলধনিতে বাড়ল সূচক

মো. আসাদুজ্জামান নূর: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিংহভাগ সিকিউরিটিজের দরপতন দেখা গেলেও সূচক বাড়িয়েছে বড় মূলধনির কোম্পানিগুলো। এছাড়া আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।

রোববার ডিএসইতে ৩৮০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৫টির, কমেছে ১৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমলেও সূচকে পয়েন্ট যোগ হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে বড় মূলধনি কোম্পানি ওয়ালটন ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি। অন্যদিকে যেসব কোম্পানির দরপতন হয়েছে, সেগুলো সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ সেগুলো কোম্পানির মূলধনের পরিমাণ অনেক কম।

এদিকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে দুই সপ্তাহ টানা উত্থান দেখা যায় পুঁজিবাজারে। এরপর দুই সপ্তাহ পতন দেখেন বিনিয়োগকারীরা। এতে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় লেনদেনে চাঙ্গাভাব ফিরছে না, যা রোববারের লেনদেনেও স্পষ্ট হয়েছে। যদিও আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কিছুটা বাড়তে দেখা গেছে।

রোববার ডিএসইতে এক হাজার ৩৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৭৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা বেশি। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকার।

খাতভিত্তিক লেনদেনের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিবিধ। ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ অবদান রাখলেও এ খাতের সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। শুধু এ খাতেই নয়। টেলিযোগাযোগ খাতের শতভাগ ও বিমা খাতের ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। তাছাড়া অন্য খাতগুলোতে দরপতন হয়েছে।

লেনদেনে এর পরের অবস্থানে থাকা খাতগুলো যথাক্রমে প্রকৌশল ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বস্ত্র ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সাধারণ বিমা ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ ও খাদ্য খাতে আট দশমিক ৩৭ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। বাকি খাতগুলোর লেনদেন ছয় শতাংশের নিচে ছিল।

খাতভিত্তিক হিসাব করলে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এদিন সাধারণ বিমা খাতের ৪০টি কোম্পানির মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদরই বেড়েছে। কমেছে বাকি তিনটির। বিমা খাতের মধ্যে জীবন বিমার ক্ষেত্রে এই চাঙ্গাভাব দেখা যায়নি। এই খাতের ১৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪টির, কমেছে আটটির আর একটি দর ছিল অপরিবর্তিত।

তবে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেলেও সূচকে বিমা খাতের কোম্পানির প্রভাব ছিল কম। এর কারণ, এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন খুব একটা বেশি নয়। ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ৫০ পয়সা দর বাড়লেও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স সূচকে যোগ করতে পেরেছে কেবল শূন্য ৭৫ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচকে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ২২ পয়েন্ট যোগ করেছে ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সূচক বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব রাখে বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। কোম্পানিটির ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয় ৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ সূচক যতটা বেড়েছে, তার মধ্যে অর্ধেকই বাড়িয়েছে এই দুটি কোম্পানি।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে চারটিই ছিল বিমা খাতের। একক কোনো খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি ছিল সাধারণ বিমাই। নতুন কোম্পানি বিডি থাই ফুড ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সও ছিল এ তালিকায়। লেনদেন শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই প্রায় ১০ শতাংশ করে দর বৃদ্ধির প্রবণতা এখনও থামেনি কোম্পানি দুটির।

ওয়ালটন ও বিএটিবিসি ছাড়া সূচক বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেÑস্কয়ার ফার্মা, রবি, গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, এক্মি ল্যাবরেটরিজ, লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট, রেনাটা ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ১০টি কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে ৩৮ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক থেকে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট ফেলেছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ ছাড়া এনআরবিসি, আর এ কে সিরামিকস, বীকন ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো সুকুক, এসআইবিএল, সাউথবাংলা ব্যাংক এনবিএল ও সোনালী পেপার সূচক নিচের দিকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেছে। এই ১০টি কোম্পানি সম্মিলিতভবে সূচক ফেলেছে ৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৭ হাজার ৬৪ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএস৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়েছে।