Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 4:47 pm

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরাতে আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি সিলভিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে সিংগাপুরে পলাতক থাকায় দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর আদেশের কপি প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য মতে, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নথি উপস্থাপনের আবেদনসহ অপর এক আবেদন দিয়ে মুজিবুর রহমান মিলনের (পাসপোর্ট নং-সি০৬৫০১৬৮) বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৪ ধারা অনুসারে সাজা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেন, প্রায় ২৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের দাবিতে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ মামলা দায়ের করে। মূল অর্থঋণ মামলা ২০১৩ সালে দায়ের হলেও মো. মুজিবুর রহমান মিলন মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় একতরফা আদেশ হয়। মুজিবুর রহমান মিলন বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিদেশে পলাতক থাকায় মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তার গৃহীত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনো সহায়ক জামানত নেই। ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ব্যাংকটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারে যে মুজিবুর রহমান বর্তমানে সিংগাপুরে অবস্থান করছেন।

এদিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়াসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সিলভিয়া গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমান মিলন তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে বিদেশে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক থাকায় এবং ব্যাংকটির বিপুল খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা হুমকিতে পড়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় মুজিবুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনার আদেশ হওয়া খুবই জরুরি বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থঋণ মামলায় ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর একতরফা রায় কার্যকর করার উদ্দেশ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রায় ২৫ কোটি টাকা আদায়ের দাবিতে মামলা দায়ের করে। ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। তাই অর্থঋণ আইন মোতাবেক নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১০ বছর আগে এ মামলা দায়ের হলেও মুজিবুর রহমান মিলন ব্যাংকটির কোনো পাওনা পরিশোধ করেননি।

এদিকে ব্যাংকটি আবেদনে উল্লেখ করেছে, মুজিবুর রহমান মিলন বর্তমানে সিংগাপুরে অবস্থান করছেন। আদালতে মুজিবুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১০টি মামলা চলমান। তিনি চেক ডিজঅনারের বহুসংখ্যক ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত এবং বিদেশে পলাতক মর্মে অন্যান্য মামলাতেও তথ্য রয়েছে। এই মামলাসহ অন্যান্য মামলাসমূহে মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার কম নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হয়নি।

দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় চলমান বহুসংখ্যক ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না আদালত। আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপি বিদেশে বসে বছরের পর বছর মামলা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে অর্থঋণ আদালত আইনে মামলা নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সেই সঙ্গে আইনি কাঠামোর দুর্বলতার কারণে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম ব্যর্থ হচ্ছে। যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ছে।

তাই মুজিবুর রহমানকে সিংঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের কপি স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।