প্রতিনিধি, সৈয়দপুর (নীলফামারী): নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিস্কুট দেয়ার প্রলোভন দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া অচিনেরডাঙ্গা এলাকায় ওই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা বাদী হয়ে মুদি দোকানদার লাল মিয়াকে (৩৬) আসামি করে গতকাল সৈয়দপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলার আসামি মুদি দোকানদার লাল মিয়া গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার আরজিতে বলা হয়, উপজেলার ২ নম্বর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বালাপাড়ার এক দিনমজুরের মেয়ে (১২) স্থানীয় একটি চুলের কেশ তৈরির কারখানায় কাজ করে। ঘটনার দিন বেলা আনুমানিক দেড়টায় সে কর্মস্থল থেকে চওড়া বালাপাড়ার নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর তার মাকে জানিয়ে বিস্কুট কেনার জন্য বাড়ির পাশের অচিনেরডাঙ্গার জনৈক লাল মিয়ার মুদি দোকানে যায়। এ সময় দোকানদার লাল মিয়া ওই শিশুটিকে বিস্কুট দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়ির ভেতরে ডেকে নেয়। এ সময় বাড়িতে কোনো লোকজন ছিল না। এ সুযোগে দোকান মালিক লাল মিয়া ওই শিশুটিকে তার বাড়ির একটি ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বেশ কিছু সময় পরও শিশুটি বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার তার মা তাকে খুঁজতে লাল মিয়ার দোকানে আসেন। এ সময় লাল মিয়ার মুদি দোকানটি বন্ধ পান শিশুটির মা। এ সময় তিনি তার মেয়ের নাম ধরে তাকে ডাকতে থাকেন। মায়ের ডাক শুনে শিশুকন্যাটি লাল মিয়ার বাড়ি থেকে চিৎকার দেয়।
শিশুকন্যার চিৎকার শুনে তার মা মুদি দোকানদার লাল মিয়ার বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় শিশুটি লাল মিয়াকে ধাক্কা দিয়ে তার ঘরে থেকে বের হয়ে এসে বাড়ির আঙিনায় পড়ে যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে শিশুটি ঘটনার বিষয়ে তার মাকে বিস্তারিতভাবে অবগত করে। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে শিশুর বাবা বাদী হয়ে তার শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকান মালিক লাল মিয়াকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন।
সৈয়দপুর থানার উপপরিদর্শক ও উপজেলার কাশিরাম বেলপুুকুর ইউনিয়নের বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্দ্র মোহন রায় শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্যাতিত শিশুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।




