নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে পাঁচটি অনিবাসী প্রতিষ্ঠান (ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজন ও নেটফ্লিক্স) মূসক নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টেক জায়ান্ট গুগল, বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, বহুজাতিক বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স ও জনপ্রিয় অনলাইন আমাজন। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট ও রিটার্ন দাখিল করে আসছে। এবার এসব প্রতিষ্ঠানকে করপোরেট করের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিডার পক্ষ থেকে এই পরামর্শ দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনবিআর কাস্টমস সদস্য (শুল্কনীতি) মাসুদ সাদিক, সদস্য (ভ্যাটনীতি) জাকিয়া সুলতানা ও সদস্য (আয়করনীতি) সামস উদ্দিন আহমেদ।
সভায় বিডার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, আমাজন, ফেসবুক ও গুগলের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন মিডিয়া কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া বাংলাদেশে ভ্যাট দিলেও করপোরেট কর দেয়। তাদের আইনি প্রতিনিধিদের করপোরেট কর দেয়ার আওতায় আনা উচিত।
শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নে করপোরেট করহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগে সবসময় পার্শ্ববর্তী এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর করপোরেট করহার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে উচ্চতর করহারের কারণে অনেক আগ্রহী বিনিয়োগকারীও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকেন। তাই নতুন বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই হার কমানো প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে করপোরেট করহার ২১ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু আমাদের দেশে নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার সাড়ে ৩২ শতাংশ, মোট ৪০ শতাংশের ওপরে পড়ে যায়। এ করহার কমানো দরকার। এ করহার কমাতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা যাবে। বাংলাদেশকে বিদেশিদের কাছে পজিটিভলি উপস্থাপনে সহায়তা করবে।
এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মুনিম বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর এত বেশি ও দীর্ঘসময় ছাড় দেয়া আছে যে, অনেক সময় ওই কোম্পানির কার্যক্রমই শেষ হয়ে যায়। তারপরও করের বোঝা যদি অতিরিক্ত হয়, তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিদেশি পরিচালকদের টিআইএন বাধ্যতামূলক রহিত করার দাবি জানিয়ে বিডার ডিজি বলেন, অর্থ আইন অনুযায়ী কোম্পানি গঠনে পরিচালকদের টিআইএন বাধ্যতামূলক। কিন্তু বড় মাপের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বাংলাদেশে আসেন না বা ব্যবসায়িক ভ্রমণ ছাড়া অবস্থান করেন না। তাদের জন্য টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রহিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিদেশি পরিচালকরা দেশে অবস্থান করুক বা না করুক তাদেরও টিআইএন এবং ওয়ার্ক পারমিট দাখিল করতে হয়। এ ক্ষেত্রেও টিআইএন ও পিআই (ওয়ার্ক পারমিট) ভিসা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া লভ্যাংশ আয়ের ওপর অগ্রিম কর কোম্পানির জন্য ২০ থেকে ১০ শতাংশ ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৫ শতাংশ হ্রাস করা, প্লাস্টিক খাতে কন্টিনিউয়াস বন্ডের অনুমতি দেয়া, টেলিকম সেক্টরের মোট প্রাপ্তির ওপর ন্যূনতম টার্নওভার কর কমানোসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা পেশ করেন।




