স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তরুণ শহিদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবের। তার পুরো নাম আবুল কালাম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সাবের। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার কারণে তিনি ‘শহীদ সাবের’ হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি মননশীল সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত। শহীদ সাবের ১৯৩০ সালের ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারের ঈদগা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র থাকার সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। স্কুলে পড়ার সময় সাবের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ছন্দশিখা নামের একটি দেয়াল পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। কলকাতায় অবস্থানকালেই দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকায় তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি চট্টগ্রামের মুকুল ফৌজ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় সাবের পরিবারের সঙ্গে পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। ১৯৪৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে ১৯৫০ থেকে চার বছর বিনা বিচারে কারারুদ্ধ থাকার পর ১৯৫৪ সালে তিনি মুক্তি পান। জেলখানায় বসে তার কারা জীবনের দিনলিপি নিয়ে রচনা করেন  গ্রন্থ ‘আরেক দুনিয়া থেকে’। ১৯৫৫ সালে সাবের জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। এরপর তিনি কিছুদিন ঢাকার ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। এখানে কিছুকাল সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পর তিনি দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। এ সময় তিনি ফেডারেল ইনফরমেশন সার্ভিস পরীক্ষায় পুরো পাকিস্তানে প্রথম স্থান অধিকার করেন। কিন্তু জেলফেরত রাজবন্দি থাকার কারণে তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। ১৯৫৮ সালের শেষ দিকে শহীদ সাবের ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকেন। এ অবস্থাতেও তিনি অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। নিয়মিত যেতেন সংবাদ কার্যালয়ে। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে: ‘আরেক দুনিয়া থেকে’, ‘এক টুকরো মেঘ’, শিশু সাহিত্য ‘ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান’ এবং দুটি অনুবাদ গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ রাতে রোজকার মতো কাজ সেরে অফিসেই ঘুমিয়ে ছিলেন সাবের। হঠাৎ ভোরে পাক সেনারা সংবাদ পত্রিকা অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। অপ্রতিরোধ্য আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় পত্রিকা অফিস। সেই সঙ্গে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা