বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। জন্মগত নাম রমা দাশগুপ্ত। তবে বাবা ডাকতেন কৃষ্ণা নামে। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের ‘মহানায়িকা’ তিনি। ১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সুচিত্রা সেন মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস’ জয় করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন। সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা জেলার সদর পাবনায় জš§গ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার অন্তর্গত সেন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামে। পাবনা শহরের বাড়িতেই তিনি তার শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কাটান। এখানে পাঠশালার পাঠ শেষ করে, তিনি পাবনা গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি। ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে সুচিত্রা সেনের চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ছবিটি আর মুক্তি পায়নি। পরের বছর ১৯৫৩ সালে উত্তম কুমারের সঙ্গে মুক্তি পায় সাড়ে চুয়াত্তর। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ও ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সিনেমা সুচিত্রা সেনকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি মুক্তি পায় তার প্রথম হিন্দি ছবি ‘দেবদাস’। ছবিতে দীলিপকুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। ৬০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সুচিত্রা সেন। এর মধ্যে বাংলা ৫৩টি এবং হিন্দি ভাষার সাতটি। বাংলা সিনেমায় তার নায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সফল মহানায়ক উত্তম কুমার। উত্তম-সুচিত্রা জুটির ৩০টি সিনেমা দর্শক জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সবার উপরে’, ‘পাপমোচন’, ‘শিল্পী’, ‘সাগরিকা’, ‘পথে হল দেরি’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’ ও ‘প্রিয় বান্ধবী’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় তার শেষ সিনেমা প্রণয় পাশা। ছবির নায়ক ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সুচিত্রা সেন বেশ কয়েকবার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। ১৯৭২ সালে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ পদকে সš§ানিত হন। ২০০৫ সালে তাকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা নিতে অস্বীকৃতি জানান সুচিত্রা সেন। ১৯৭৮ সালে তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসর নেন। এর পর থেকে প্রায় ৩৬ বছর তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কাজী সালমা সুলতানা