প্রথিতযশা নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের আজ ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯২৬ সালের ২৮ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার কাছে সংগীতে তালিম গ্রহণ করেন। পরে কলকাতায় সংগীত গুরু চিত্ত রায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন। তৎকালীন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুরকার ও সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে তিনি সংগীত চর্চা চালিয়ে যান। ১৪ বছর বয়সে ফিরোজা বেগমের প্রথম গানের রেকর্ড প্রকাশ করে কলকাতার কলম্বিয়া রেকর্ড কোম্পানি। সে সময় থেকেই তিনি কলকাতা বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন শুরু করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ফিরোজা বেগম অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গানে কণ্ঠ দেন। নজরুল সংগীত নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে। ১৯৫৫ সালে তিনি সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত তিনি কলকাতায় বসবাস করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি সপরিবারে দেশে ফিরে ঢাকায় চলে আসেন। ফিরোজা বেগম সাত শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৮০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় ৩৮০টি একক সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নজরুলসংগীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাতসহ বিভিন্ন ধরনের সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার ১২টি এলপি, চারটি ইপি, ছয়টি সিডি ও ২০টির বেশি অডিও ক্যাসেট বেরিয়েছে। নজরুলগীতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বর্ণপদক, শ্রেষ্ঠ টিভিশিল্পী পুরস্কার (পাকিস্তান ও বাংলাদেশে), নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট, স্যার সলিমুল্লাহ স্বর্ণপদক, দীননাথ সেন স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কার, সিকোয়েন্স পুরস্কারসহ অসংখ্য পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হন। জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে পেয়েছেন গোল্ড ডিস্ক। ফিরোজা বেগম ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
কাজী সালমা সুলতানা
