Print Date & Time : 26 April 2026 Sunday 4:59 am

স্লোগান ওঠে ১৪৪ ধারা মানি না, মানি না

কাজী সালমা সুলতানা: রাষ্ট্রভাষা কেন্দ্রীয় কমিটি ও সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ ঘোষণা করে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশের সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট ও শোভাযাত্রা পালন করা হবে। ৪ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত  প্রতিবাদ দিবস পালনের প্রস্তুতি চলে। এ প্রস্তুতি সারা পূর্ব বাংলায় চলতে থাকে। সেদিন সরকার পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের বাজেট অধিবেশন আহ্বান করে। ওই অধিবেশনের উদ্দেশ ছিল, বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পূর্ব পাকিস্তানের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

আগের সভা ও মিছিলগুলোর কারণে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত হয়। এ অবস্থায় পূর্ববঙ্গ সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষেধ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্ররা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ২০-২১ ফেব্রুয়ারির গভীর রাতে ফজলুল হক হল আর ঢাকা হলের (বর্তমানে শহীদুল্লাহ হল) মাঝখানে পুকুর পাড়ে যে কোনো মূল্যেই ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গাজীউল হক ২১ ফেব্রুয়ারির আমতলার সভায় সভাপতিত্ব করবেন। যদি তিনি সভার আগে গ্রেপ্তার হয়ে যান তবে এমআর আক্তার মুকুল সভাপতিত্ব করবেন আর যদি তিনিও গ্রেপ্তার হন তাহলে কমরুদ্দিন শহুদ সভাপতিত্ব করবেন। রাতভর বহু পোস্টার লেখা হয় ও পোস্টারিংও করা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকেই শহীদুল্লা কায়সার ও মোহাম্মদ তোয়াহ আসেন। ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে চার-পাঁচজন করে ছাত্র মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা একটু যেতেই আমতলা, মধুর রেস্তোরাঁ ও মেডিকেল ব্যারাক ছাত্রছাত্রী জমায়েতে একাকার। এরই মধ্যে পুলিশের কয়েকটি জিপ, ট্রাক এবং একটি বাস কলাভবনের বাইরের রাস্তায় ও ব্যারাকের সামনে ফুলার রোডে এবং আশপাশে জমা হন। সমগ্র এলাকা যেন যুদ্ধংদেহী পরিবেশে রূপ লাভ করে। বেলা ১১টায় আমতলায় সভা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল মতিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘জালেম সরকারের নিষেধাজ্ঞা ১৪৪ ধারাকে প্রতিরোধ করা না গেলে অনাগত দিনে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারও অবশিষ্ট থাকবে না। নুরুল আমিন সরকার বিশ্ববিদ্যালযয়ের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করেছে। ১৪৪ ধারা ভাঙা হলে নাকি গুলি করা হবে। আমরা সরকারের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। আমরা দেখতে চাই নুরুল আমিনের অস্ত্রাগারে কত বুলেট জমা আছে।’ তার বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে সেøাগান ওঠে ১৪৪ ধারা মানি না, মানি না। এরপরই ১০ জন ১০ জন করে ছাত্র সত্যাগ্রহীরা শান্তিপূর্ণভাবে সেøাগান দিতে দিতে ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য এগোতে থাকে।

(সূত্র-ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস)