নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধ সম্পদের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে সাজার রায় দেয়া বিচারককে ‘হত্যার হুমকি’ দিয়ে দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান গত ১৭ অক্টোবর চিঠি দুটি পান বলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির শাহ মো. মামুন জানান।
তিনি বলেন, চিঠি পাওয়ার পর ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
‘চিঠি প্রেরকদের একটিতে ঠিকানা দেয়া আছে বগুড়ার শেরপুরের সাউদিয়া পার্ক সিটির জহির উদ্দিন। অন্য চিঠিতে চট্টগ্রাম সদর থানার বরইতলীর হাতেম আলী সওদাগরের নাম ঠিকানা আছে।’
চিঠিতে লেখা হয়েছে, আপনি অন্যায়ভাবে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে সাজা দিয়েছেন। আপনাকে আমরা মৃত্যুদণ্ড দিলাম। অচিরেই আমরা বিচার কার্যকর করব। বাংলার যুব সমাজ।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট আদালতের নাজির অভিযোগটি দিয়েছেন। কাফনের কাপড় পাঠানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।’
গত ২ অগাস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তারেক রহমানকে ৯ বছর ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক আছাদুজ্জামান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই মামলাটি হয় ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে। তখন তারেক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
২০০৮ সালে তারেক জামিনে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান চিকিৎসার জন্য। এরপর তিনি আর দেশে ফেরেননি। প্রবাসে থেকেই বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি, মা কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নেন তিনি।
তারেক বিদেশে থাকা অবস্থায়ই এর আগে চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজার রায় আসে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে দুই বছর, অর্থ পাচারের দায়ে সাত বছর, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং একুশে আগস্টের গ্রেনেড মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় তার।
জোবায়দা চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরিতে ছিলেন। ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে না ফেরায় ২০১৪ সালে তাকে বরখাস্ত করে সরকার। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে স্বামীর অপরাধে সহযোগিতা এবং মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।