নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃষ্টির পানিতে হেঁটে যাওয়ার সময় রাজধানীর কমার্স কলেজ সংলগ্ন হাজীপাড়া সড়কে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চারজনের মৃত্যু হয়। গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কের অন্য পাশের ঝিলপাড় বস্তির বাসিন্দা। বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগে কারণে ওই চারজন মারা যান বলে বস্তিবাসীর অভিযোগ।
গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল সংলগ্ন অবৈধ বিদ্যুতের তার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিদ্যুতের লাইন উচ্ছেদ শেষ করে। এ সময় মিরপুর মডেল থানার একাধিক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ঝিলপাড় হাজীপাড়া সড়কের সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এর পাশে মুক্তা ফার্মাসির মধ্যবর্তী দেয়াল বেয়ে নামানো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন। আর সামান্য দূরেই শাহজাহান ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রনিকসে এ দেয়াল সংলগ্ন অবৈধ বিদ্যুতের লাইন ও উচ্ছেদ করা হয়। দেয়ালে প্লাস্টার ভেঙে ও ড্রেনের নিচ থেকে এসব লাইন কাটা হয়। শাবল, হাতুড়ি দিয়ে প্লাস্টার ভেঙে কাটা হয় বিদ্যুতের অবৈধ লাইন। ড্রেনের নিচ থেকে কাটা হয় অবৈধ বিদ্যুতের লাইন।
বাসিন্দারা জানায়, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাইন নিয়ে সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও শাহজাহান ইলেকট্রনিকস ভবন সংলগ্ন দেয়াল দিয়ে তা নামানো হয়। খুঁটি থেকে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দেয়ার পর তারা নিজেরা বিল্ডিংয়ের দেয়ালে প্লাস্টার করে দেয়। লাইনটি ড্রেনের ভেতর দিয়ে নিয়ে অন্য পাশের ঝিলপাড়ের বস্তিতে সংযোগ দেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করে একাধিক ব্যক্তি। যাদের নিয়ন্ত্রণে ঝিলপাড় বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বস্তির এক বাসিন্দা বলেন, বিদ্যুতের লাইন থেকে ৬টা লাইন নামিয়ে বস্তিতে দেয়া হয়েছে। যার তিনটা ঝিলপাড়া বস্তির রাস্তা থেকে নামানো হয়েছে। আর বাকি তিনটা বস্তির বিপরীত পাশের সড়ক থেকে নামানো হয়েছে। বস্তিতে প্রায় ১ হাজার লোকের বসবাস। প্রত্যেক ঘর থেকে মাসে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা করে উঠানো হতো।
বাসিন্দারা বলছে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বস্তিবাসীর কাছ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। অবৈধ এসব বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে সবাই অবগত, কিন্তু প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলে না। দুর্ঘটনার পর পানিতে বিদ্যুৎ থাকার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। তখন দ্রুত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের লাইনটি খুঁটি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় সংযোগ দানকারীদের কেউ।
এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর নেলসন বলেন, আমরা এখানে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের নিরাপত্তা দিতে এসেছি। এখানে যাতে কোনো হট্টগোল না হয় সে জন্য এসেছি। তদন্তের পর জানা যাবে কারা এ অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত।
