হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা বর্জ্য আলাদা করে হস্তান্তর করতে হবে: তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব প্রতিষ্ঠানে সৃষ্ট সাধারণ বর্জ্য থেকে চিকিৎসা বর্জ্যকে আলাদা করে সিটি করপোরেশন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল দুপুরে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থান ও মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এ মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, ‘চিকিৎসা বর্জ্য ধ্বংসে আমাদের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালগুলো যথানিয়মে সাধারণ বর্জ্য থেকে চিকিৎসা বর্জ্যকে পৃথক করছে না। এটা নিজ নিজ হাসপাতাল ও ক্লিনিককে পৃথক করতে হবে। কিন্তু তারা সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গেই চিকিৎসা বর্জ্য মিলিয়ে এগুলো ফেলে দিচ্ছে বা দিয়ে দিচ্ছে। সুতরাং সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইনস্টিটিউটসহ চিকিৎসার কাজে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই সাধারণ বর্জ্য থেকে চিকিৎসা বর্জ্যকে পৃথক্করণের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহের জন্য আমরা নিবন্ধন দেব, তাদের কাছে এটা হস্তান্তর করতে হবে। তারা সরাসরি আমাদের মাতুয়াইল ভাগাড়ে ইনসিনারেশন প্লান্টে নিয়ে এলে আমরা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা বর্জ্য থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করতে পারব।’

চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহ ও ধ্বংস করার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। ২০০৬ সালে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ নিয়ে একটি চুক্তি করা হয়েছিল। পরে সেই চুক্তির মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়নি। আমরা কিন্তু আমাদের কেন্দ্রীয় মাতুয়াইল ভাগাড়ে জায়গা দিয়েছি। সেখানে একটি ইনসিনারেশন, অটোক্লেভ করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসা বর্জ্যগুলো আলাদা আলাদাভাবে নেয়া যায় এবং যেসব বর্জ্য ধ্বংসযোগ্য বা ধ্বংস করা অত্যাবশ্যক, সেগুলোকে ধ্বংস করা যায়। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও করা হয়। সেই নীতিমালা অবলম্বন করে আমরা এখন প্রত্যেকটি অঞ্চলে আলাদা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করছি। যারা নীতিমালার আলোকে সবকিছু পরিপালন করে সুষ্ঠুভাবে এগুলো সংরক্ষণ করবে এবং আমাদের মাতুয়াইল ভাগাড়ে নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করবে।’

পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে ঢাকাবাসীর কল্যাণে সব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আজকে আমরা এখানে একটি কবরস্থান ও মসজিদের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলাম। এ কবরস্থানের জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল অবস্থায় ছিল। জমি নিয়ে বিভিন্ন

 সমস্যা ছিল। আমরা পুরোটা দখলমুক্ত করেছি। পরিপূর্ণ জায়গা নিয়ে আমরা একটি সুন্দর কবরস্থান করছি। তার সঙ্গে সঙ্গে কবরস্থানের জন্য আনুষঙ্গিক যে বিষয়গুলো থাকে তার মধ্যে মসজিদ, গোসলখানা ও জানাজার স্থান নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে তিন হাজার ৪০০টি কবর দেয়া যাবে। সুতরাং ঢাকাবাসীর কবরের জন্য যে চাহিদা রয়েছে, এ এলাকা সেই চাহিদা মেটাতে পারবে বলে মনে করি।’

আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদন করে, তাদের উৎসেই তা আলাদা করার বিধান আছে বলে উল্লেখ করে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশ আইনেই এই বিধানটি সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। আসলে অতীতে কিন্তু এটা নিয়ে আমরা কেউ ভাবিনি। এখন আমরা প্রতিটি বর্জ্য এবং বর্জ্যরে উৎসস্থল চিহ্নিত করছি।’

কবরস্থান ও মসজিদের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মেয়র কবরস্থান প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়া এবং ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী একটি রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

এর আগে মেয়র শেখ তাপস টিকাটুলি জামে মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং বাংলাদেশ মাঠ ভবন ও ধানমন্ডি নগর সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং এলিফ্যান্ট রোডে নবনির্মিত গণশৌচাগার উদ্বোধন করেন।