Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 1:36 am

১২২ কনটেইনারে ১১৯ কোটি টাকার পণ্য নিলাম হবে

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: বড় নিলামে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ শুল্ক স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি ২০ এপ্রিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ই-অকশন করছে। ৫৩ লটে ১২২টি কনটেইনারে ১১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার পণ্য নিলাম হবে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমানে ধারণক্ষমতার ৫৩ হাজার ৫১৮ টিউস। তবে আমদানিকারকরা সময়মতো খালাস না করায় দীর্ঘদিনে বন্দরের ইয়ার্ডে জমেছে প্রায় দশ হাজার কনটেইনার। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষে এসব কনটেইনার নিলামের কথা থাকলেও পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে এতদিন তা দ্রুত করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে অতিরিক্ত কনটেইনার জটে হ্যান্ডলিং বাধাগ্রস্ত হয়ে অপারেশনাল জটিলতা হয়েছে, অন্যদিকে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বন্দরের চাহিদার বিপরীতে নিলামে গতি আনতে ৭৯ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদায়ন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাতে সুফলও মিলছে। দ্রুত কায়িক পরীক্ষা করে নিলামের ব্যবস্থাও করতে পারছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

চট্টগ্রাম কাস্টম সূত্রে জানা যায়, এনবিআর অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেয়ার পর থেকে কাজের গতি বেড়েছে। তাতে ৫৩টি লটে একসঙ্গে ১২২টি কনটেইনারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিলাম করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

নিলাম শাখা সূত্রে জানা যায়, এবারের নিলামে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, লোহার পাইপ, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, প্যাডলক, ব্যাটারি, কম্বল কাপড়, স্প্যানড্যাক্স ডেনিম কাপড়, সিন্থেটিক কাপড়, ফ্লিস ফেব্রিক, প্রিন্টেড ফেব্রিক, পলিয়েস্টার ফেব্রিক, পিকেজি ফেব্রিক, ডেনিম ফেব্রিক, কাপড়ের বুনন মেসিন, প্লাস্টিক ফিল্ম, এমসিপিপি ফিল্ম, সোডিয়াম নাইট্রেট, ফসফরিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, সিমেন্ট, রং, আয়রন ডাস্ট স্ক্র্যাপ, ব্যবহƒত ক্রলার এক্সক্যাভেটর, কার্ড বোর্ড এবং ব্রিফকার্ড, পোলট্রি ফিডিং সিস্টেম, পোলট্রি মেশিন, পোলট্রি স্টিল স্ট্রাকচার, ধারানোর পাথর, কব্জা, টাইলস, এয়ার ফিল্টার, গ্লাস ফাইবার, ফোম শিট, গিয়ার, বই, ছবির অ্যালবাম ইত্যাদি।

নিলামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম ফাইজুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ৫৩টি লটের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যের লটে রয়েছে সোলার পাওয়ার প্ল্যানের জন্য আনা ক্যাপিটাল মেশিনারিজ। এর সংরক্ষিত মূল্য ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি ৭২ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। এসব মেশিনারির ওজন ১০ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৬ কেজি। তার পরের সর্বোচ্চ মূল্যে লটে রয়েছে ৭১ হাজার ৮৫০ কেজি পণ্য। যার সংরক্ষিত মূল্য ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার ৪৭৬ টাকা। এই লটে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, প্যাডলক ও প্রাইমারি ব্যাটারি রয়েছে। তার পরের সর্বোচ্চ মূল্যের লটে রয়েছে তিন লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৮ কেজির লোহার পাইপ। এই লটের সংরক্ষিত মূল্য চার কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৩ টাকা। এভাবে ৫৩ লটে ১১৯ কোটি ৫৭ লাখ তিন হাজার ২৮৯ টাকা সংরক্ষিত মূল্যের পণ্য নিলাম করা হবে।

আমদানিকৃত কনটেইনার আমদানিকারক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সাধারণ পণ্যের কনটেইনারের ক্ষেত্রে ৩০ দিন এবং পচনশীল কনটেইনারের ক্ষেত্রে ৭ দিন) খালাস করা না হলে তা কাস্টম আইন অনুযায়ী নিলামের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বাই পেপারে হস্তান্তর করে থাকে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি দিয়ে নিলামযোগ্য কনটেইনার দ্রুত কায়িক পরীক্ষার জন্য তিন বাহিনী থেকে জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) পর্যায়ের কর্মকর্তা ডেপুটেশনের মাধ্যমে পদায়নের অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর বিপরীত এনবিআর নতুন করে ৭৯ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ করলে কাজের গতি বাড়ে। বর্তমানে (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে কনটেইনার রয়েছে ৪২ হাজার ২১৪টি। তার মধ্যে নিলামযোগ্য কনটেইনার রয়েছে নয় হাজার ৪৩৯টি। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য গাড়ি রয়েছে ১৪১টি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার দায়িত্বে থাকা সাকিব হোসাইন শেয়ার বিজকে বলেন, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এ নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কনটেইনার পড়ে থাকে। দিনের পর দিন কনটেইনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষও চার্জ পায় না।