Print Date & Time : 29 August 2025 Friday 9:19 pm

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হচ্ছে দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক লাখ ৪৪ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে আগামী (২০২৫-২৬) অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার কাল্পনিক অঙ্ক থেকে বাস্তবিক অঙ্কে ফিরতে চাচ্ছে, এটি ইতিবাচক দিক।

তবে বাস্তবায়নও করতে হবে সচেতনভাবে। সার্বিকভাবে আকার কমানো ইতিবাচক, কারণ অর্থায়নের সমস্যা রয়েছে। সব মিলিয়ে এটি সঠিক পদক্ষেপ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ মে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করতে বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। সভায় পরিকল্পনা সচিব, পরিকল্পনা বিভাগের অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত হলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন পাবে।

জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দই আগামী অর্থবছর কমছে। এদিকে সবচেয়ে কম বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত হলো প্রতিরক্ষা।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে দুই লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট মূল এডিপির তুলনায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম হলেও সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো চাহিদা দিয়েছে দুই লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে সরকারের অর্থায়ন ছিল এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকারের অর্থায়ন কমে এক লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় নামছে। বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৮৬ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিবছরের বাজেটের অঙ্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে এডিপির বড় ভূমিকা থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম হচ্ছে। প্রতিবছর উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়লেও বছর শেষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস শেষে উন্নয়ন বাজেটে তথা এডিপি খরচ হয়েছে মাত্র ৩৬.৬৫ শতাংশ। এর চেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য সংস্থাটির ওয়েবসাইটে নেই। এদিকে ৯ মাসে ৮২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা অর্থছাড় হয়েছে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর সর্বনিম্ন। গত অর্থবছরে এক লাখ সাত হাজার ৬১২ কোটি টাকা ছাড় হয়েছিল এই সময়ে।

উন্নয়ন বাজেট কমানোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এডিপি কমানো দরকার ছিল। কারণ আমরা প্রতিবছরই উন্নয়ন বাজেটের যে বিরাট আকার দিয়ে শুরু করি, তা কখনো অর্জিত হয় না। এটি অনেক দিন থেকে বলা হচ্ছিল। এডিপিতে যেসব প্রকল্প আছে, এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এখন দেখার বিষয় দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পগুলোতে কোন ধরনের প্রকল্প অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সব মিলিয়ে এটি সঠিক পদক্ষেপ।

এই অর্থবছর বিদেশি ঋণে উন্নয়ন কর্মসূচি কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৮৬ হাজার কোটি টাকায় নামানো হচ্ছে।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরে নেওয়া বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ কোটি টাকা, সেটিও তো বাজেটেরই অংশ, এটা অর্জিত কোনো অঙ্ক না। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকাও যদি বাস্তবায়ন করতে পারে, যেসব প্রকল্প পাইপলাইনে আছে, সেগুলোর অর্থছাড় যদি বাড়ানো সম্ভব হয়, সেটি আগের অর্জনের তুলনায় অগ্রগতি হবে।

জানা গেছে, নতুন উন্নয়ন বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগ চাহিদা দিয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। তাদের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৪০ হাজার ২৩ কোটি টাকা। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ৩৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল। তাদের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা চাহিদা দিলেও তারা ২০ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পাচ্ছে ১০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য বিভাগ পাচ্ছে সাত হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পাচ্ছে আট হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা।