৫ বছর পর কর অঞ্চল রাজশাহীর ‘ছক্কা’

২০২২-২৩ অর্থবছর ১২১১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় ১২২৫ কোটি টাকা

সরকারি প্রতিষ্ঠানে উৎসে কর আদায় তদারকি ও বড় করদাতাদের অগ্রিম কর আদায়ে জোর দেয়া হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়। আবার টানা পাঁচ বছর পর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। সঙ্গে এই কর অঞ্চলের প্রথমবার রাজস্ব আদায় ১২০০ কোটি টাকা পার। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০১ শতাংশ। এক কথায় সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছর সব দিকে যে ‘ছক্কা’ মেরেছে কর অঞ্চল রাজশাহী। এই কর অঞ্চল বিদায়ী অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২১১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় করেছে ১ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত টানা পাঁচ অর্থবছর এই কর অঞ্চল অতিরিক্ত আদায় থাক দূরের কথা, লক্ষ্যমাত্রাই অর্জন করতে পারেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎসে কর্তন তদারকি, শেষ বিলে সর্বোচ্চ হারে কর কর্তন করতে চিঠি দেয়া, বড় করদাতাদের অগ্রিম কর নির্ধারণ ও আদায়সহ রাজস্ব আদায়ে কৌশল নির্ধারণ করা হয়। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রম আর মনিটরিং এর ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

রাজশাহী কর অঞ্চলের হিসেবে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছর এই কর অঞ্চলের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা। যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রবৃদ্ধি ১০১ শতাংশ। আবার ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছর বেশি আদায় হয়েছে ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছর এক হাজার ১৭৯ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছিলো এক হাজার ১১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আদায় হয়েছে ৬২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম আদায় হয়। এই অর্থবছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও আদায় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৯৫ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছর এক হাজার ১০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিলো ৯৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও এই অর্থবছর আদায় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৮৬ শতাংশ।

হিসেবে আরও দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছর এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিলো ৭৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৭৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছিলো। এই অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও আদায় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৬২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৯৭৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিলো ৭২৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৪৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছিলো। রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৭৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৮৩২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিলো ৬৭৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা কম আদায় হয়। এই অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আদায় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৮১ শতাংশ।

এই বিষয়ে রাজশাহী কর কমিশনার মো. শাহ্ আলী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এনবিআর কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত কর মামলা অনুমোদন সংক্রান্ত কার্যক্রমে কর কমিশনারের সম্পৃক্ততা হ্রাস করা, সার্বিক প্রশাসনিক ও আদায় কার্যক্রমে নিজেকে অধিক পরিমাণে নিয়োজিত রাখায় এই সুফল অর্জিত হয়েছে। ৩০ শে জুনের মধ্যে নতুন করদাতাদের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন, অগ্রিম আয়কর আদায় সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। এছাড়া উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়, শেষ বিলে সর্বোচ্চ হারে কর কর্তন করতে চিঠি দেয়া হয়। ২২টি সার্কেলের প্রতিটির সর্বোচ্চ ২০টি করে অবিতর্কিত করদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তা আদায় তদারকি করা হয়। বড় করদাতাদের হিসাব বিবরণী অনুযায়ী অগ্রিম করের পরিমাণ নির্ধারণ ও আদায়ের মাধ্যমে এই সফলতা অর্জিত হয়েছে।’ এই সাফল্যে কমিশনার কর অঞ্চল রাজশাহীর অধিক্ষেত্রাধীন সকল করদাতা বিশেষ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি সকল উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ, পাঁচটি জেলার ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন ও কর আইনজীবী সমিতিকে কর অঞ্চল-রাজশাহীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সূত্রমতে, কর অঞ্চল-রাজশাহী রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি জেলা যথা-রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত।