নিজস্ব প্রতিবেদক: ৭৪ দিন পর তালা ভেঙে দলের পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেলা পৌনে ১১ টার দিকে আমরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি। আমাদের যুবদলের একজন নেতা ও একজন প্রবীণ সাংবাদিক হত্যার মধ্য দিয়ে এক ভয়াবহ নিপীড়নের তাণ্ডব শুরু হয়। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ পণ্ড করে পুলিশ এক নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। এই দুই মাসের অধিক সময় পুলিশ কাউকে এখানে ঢুকতে দেয়নি এবং আশপাশে ভিড়লেও তাদের আটক করে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ এই কার্যালয়ের চাবি নিয়ে যায়। কত নাটক করেছে। তারপর গেট বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। সবই গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা দেখেছেন জানেন। আমরা আমাদের প্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এখন ঢুকেছি। পুলিশের কাছে চাবি চাওয়ার পরেও আমাদের চাবি দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, পরে আমাদের কর্মীরা তালা ভেঙে এই কার্যালয়ে প্রবেশ করে।
এদিকে তালা ভেঙে বিকাল ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘৭ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি। ভোটের ফলাফল সব নির্ধারিত হয়েছে ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের টেবিল থেকে। কে কত ভোট পাবে, কে কে নির্বাচিত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে মঈন খান অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস সরকার বেদখল করে নিয়েছিল ২৮ অক্টোবর ক্র্যাকডাউন করে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ মৃত। গণতন্ত্রের জন্য লাখ লাখ মানুষ নিজেদের রক্ত দিয়েছিল, এ অবস্থার জন্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘এ দেশের মানুষ ৭ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করে সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া বলেছে এ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, সুষ্ঠু হয়নি। অনেক সংস্থা বলেছে, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করে হয়নি। সাজানো নাটক করে নির্বাচনের আবহ তৈরি করেছেÑতা বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে। এটা স্পষ্ট হয়েছে, ৭ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি। ভোটার ফলাফল সব নির্ধারিত হয়েছে ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের টেবিল থেকে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আছি, থাকব। ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করি। একটা ভোটের পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ সময় মঈন খান আরও বলেন, ‘নির্বাচনের অনিয়মের ২৫০ ঘটনা নিয়ে আমাদের ডকুমেন্ট তৈরি হয়েছে। এগুলো যথেষ্ট নয়, আরও ২৫০ অনিয়মের ঘটনা নিয়ে ডকুমেন্ট তৈরি হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভর বিষয়ক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নির্বাচনের দিন ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যচিত্র প্রচার করা হয় দলের পক্ষ থেকে।




