শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউক্রেন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। গত সপ্তাহে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে সেসব হুমকিধামকিকে বাস্তবে রূপ দিল দেশগুলো। ২ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার আলিগার্ক (ধনিক শাসক) ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া তালিকা প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক সবরব্যাংককে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করে যুক্তরাজ্য। দেশটি জানায়, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব রাশিয়ান ফেডারেশনকে (সিবিআর) লক্ষ্য করে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে দি ব্লাক সি ব্যাংক, আইএস, জেনব্যাংক, প্রমসভিজব্যাংক, রোসিয়া, ভিটিবি, ভিইবিডটআরএফ, ওতক্রিতে ও সোভকমব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জেএসসি রিসার্চ, ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশন, রোসটেক, ট্যাকটিক্যাল মিসাইলস করপোরেশন, ইউনাইটেড শিপবিল্ডিং করপোরেশন ও উড়ালভেগনজাভোদ। যুক্তরাজ্য রাশিয়ার যেসব ধনকুবেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ভিটিবি ব্যাংকের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেনিস বর্টনিকভ। রয়েছেন আলেকসান্দর বর্টনিকভের ছেলে (ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) পরিচালক, তার বিরুদ্ধে গত বছর মার্চ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে)। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল ফ্রাদকোভের ছেলে পেট্র ফ্রাদকোভ (প্রমসভিজব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী)। নোভিকমব্যাংকের চেয়ারম্যান এলিনা জর্জিয়েভা। রাশিয়ার আর্মড ফোর্সের প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমোভÑ২০১৪ সাল থেকে কালো তালিকাভুক্ত। তালিকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও রয়েছেন সের্গেই লাভরভ, ভ্লাদিমির পুতিন, বরিস রোটেনবার্গ, ইগর রোটেনবার্গ, কিরিল শ্যামালোভ, ইউরি সিলুসার ও গেনাদি টিমশেঙ্কো। রাশিয়ার যেসব রাজনীতিবিদ দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে সবরব্যাংক, নেশেকোনোম, ওতক্রিতে, প্রমসভিজব্যাংক, নোভিকোম, ভিটিবি ও শোভকমব্যাংক। ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে রয়েছে ডেনিস বর্টনিকভ, পেট্র ফ্রাদকোভ, ভ্যালেরি গেরাসিমোভ সের্গেই ইভানোভ, ভøাদিমির কিরিয়েঙ্কো, সের্গেই লাভরভ, ভ্লাদিমির পুতিন, ইভান ইগোরেভিচ সেচিন, সের্গেই শোইগু ও আলেক্সান্দার ভেদায়খিন।
ইইউ’র নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে রোসিয়া, প্রমসভিজব্যাংক ও ভিইবিডটআরএফ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি। ইইউ রাশিয়ার অনেক ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলিশার উসমানোভ, মিখাইল ফ্রিডম্যান, পেট্র আভেন প্রমুখ। পেট্র আভেন রাশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক আলফার শেয়ারহোল্ডার। আলফা গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিখাইল ফ্রিডম্যান। উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি গ্রিগোরেঙ্কো। রাশিয়ান নেভির ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ ভøাদিমির ভোভিচ কাসাটেনোভ। মিডিয়া গ্রুপের নিউজ ফ্রন্ট লিমিটেডের কনসটানটিন নিরিক। রাশিয়ার ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আরটির (রাশিয়া টুডে) এডিটর-ইন-চিফ মারগারিটা সিমোনিয়ান। ভিটিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে কসটিন। ব্লাক সি ফ্লিটের কমান্ডার-ইন-চিফ ইগর ওসিপোভ। পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকোভ। রাশিয়ান গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেগ সালইয়ুকোভ। পুতিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টা ইগর সেচিন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার ছেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং দেশটিতে থাকার তাদের সব সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু, ধারণা করা হয় ইউক্রেনে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তিনি। আলেকসি পুশকোভ, ডেনিস বর্টনিকোভ, নিকোলাই তোকারেভ, নিকোলাই ইয়েভমেনোভ, মারিয়া জাখারোভা, আলিশার উসমানোভ, ইয়োটর টলস্টয়, ম্যক্সিম রেশেননিকোভ, মারাত খুশনুলিন, সের্গেই রোল্ডুগিন, সের্গেই সুরোভিকিন, ইগর শুভালোভ, ভøাদিমির সোলোভইয়োভ, অ্যান্টন ভাইনো, ইয়েভজেনি প্রিগোঝিন ও তার মা ভায়োত্তো প্রিগোঝিনা ও স্ত্রী লিউবোভ ভ্যালেন্তিনোভনা প্রিগোঝিনা।




