ফের বাড়ল এলপিজির দাম ১২ কেজি ১৩৯১ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ২৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়। গতকাল বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলপিজি গ্যাসে কেজি প্রতি ১২ টাকা ৫৭ পয়সা বেড়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে মার্চ মাসের জন্য এলপিজি মূসকসহ কেজিপ্রতি ১০৩ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছে। সে হিসেবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজির মূসকসহ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১ হাজার ৩৯১ টাকা। ফলে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে গ্রাহককে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজিতে ১৫১ টাকা বেশি দিতে হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, মোটরগাড়ির জন্য অটোগ্যাসের দামও বর্তমানে মূসকসহ প্রতি লিটার ৫৭ দশমিক ৮১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৪ দশমিক ৭৮ টাকা করা হয়েছে। জানা গেছে, এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তি মূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। সৌদি সিপি অনুসারে মার্চে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যথাক্রমে টন প্রতি ৮৯৫ এবং ৯২০ ডলার, মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় মার্চের জন্য এ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতি কেজি এলপিজির সর্বোচ্চ মূল্য ১১৫ টাকা ৮৮ পয়সা ধরে মার্চে সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬৩৭ টাকা, ১২ কেজির দাম এক হাজার ৩৯১ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির দাম এক হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৫ কেজির দাম এক হাজার ৭৩৮ টাকা, ১৬ কেজির দাম এক হাজার ৮৫৪ টাকা, ১৮ কেজির দাম দুই হাজার ৮৬ টাকা, ২০ কেজির দাম দুই হাজার ৩১৮ টাকা, ২২ কেজির দাম দুই হাজার ৫৪৯ টাকা, ২৫ কেজির দাম দুই হাজার ৮৯৭ টাকা, ৩০ কেজির দাম তিন হাজার ৪৭৬ টাকা, ৩৩ কেজির দাম তিন হাজার ৮২৪ টাকা, ৩৫ কেজির দাম চার হাজার ৫৫ টাকা এবং ৪৫ কেজির দাম ৫ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয়ের পরিবর্তন না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির উৎপাদিত এলপিজির দাম পরিবর্তন করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলপিজির দাম সমন্বয় করা হলেও সরকারের বেঁধে দেয়া দাম মানে না ব্যবসায়ীরা। খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয় এলপিজি সিলিন্ডার। ফলে এলপিজি ব্যবহারে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। আর মুনাফা লুটছে কোম্পানি, ডিলার আর খুচরা ব্যবসায়ীরা।

এর আগে গত ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ১২ কেজি প্রতি সিলিন্ডারের দাম ৮৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২২৮ টাকা। গত নভেম্বরে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১০৪ দশমিক ৯২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৯ দশমিক ৪২ টাকা করা হয়। ফলস্বরূপ ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ১ হাজার ৩১৩ টাকায় পৌঁছায়। তার আগে একই বছরের অক্টোবর মাসেই এ গ্যাসের দাম প্রতি কেজি ৮৬ দশমিক ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৪ দশমিক ৯২ টাকা করা হয়েছিল। সে হিসেবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম অক্টোবর মাসে ছিল এক হাজার ২৫৯ টাকা।