বিআইবিএম-এ বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) -এ অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসাথে ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিআইবিএমে এটির উদ্বোধন করেন বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বিআইবিএম’র অধ্যাপক মো. নেহাল আহমেদ। লেখকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. শাহ্ মোঃ আহসান হাবীব। সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বিআইবিএম বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বিশেষ প্রকাশনা প্রকাশ করেছে। মোট ১০টি অধ্যায়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইটির লেখক বিআইবিএম’র অধ্যাপক ড. শাহ্ মোঃ আহসান হাবীব; বিআইবিএম’র অধ্যাপক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন ছিদ্দিকী; বিআইবিএম’র অধ্যাপক মো. নেহাল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপ-মহাব্যবস্থাপক কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ। এছাড়াও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড.এম.কে. মুজেরী; মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আনিস এ. খান; ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং এবিবি-এর চেয়ারম্যান সেলিম আর. এফ. হোসেন; ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবুল কাশেম মোঃ শিরিন।

‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাত পাঁচ দশক অতিক্রম করেছে- যার যাত্রা শুরু হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য নেতৃত্বে। বাংলাদেশ ব্যাংক তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমেই মূলতঃ স্বাধীন বাংলাদেশের ব্যাংক খাত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন এবং এক্ষেত্রে আর্থিক খাতের ভূমিকা এবং ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা অনেকটাই দৃশ্যমান এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, সম্পদের পরিমাণ, বিস্তৃতি-এসবই আর্থিক খাতের ক্রমশঃ সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতাকেই নির্দেশ করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, গত পাঁচ দশকে ব্যাংক খাতের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ, এবং সংস্কারে বড় পরিবর্তন এবং বিবর্তন এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনায়। বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং সংশোধন করা হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। তদারকী ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বহির্বিশ্বের প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য আর্থিক খাত সংস্কারের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।

লেখকদের পক্ষ থেকে প্রকাশনাটির টিম লিডার বিআইবিএম-এর অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ্ মোঃ আহসান হাবীব বলেন, স্বাধীনতা আমাদের বাঙালী জাতির সর্বোত্তম অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আবেগীয় অনুভূতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা সহজ ভাষায় স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসকে সাবলীলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি যাতে যে কোন পেশার, বয়সের পাঠক বইটি পড়ে জানতে পারেন এবং বুঝতে পারেন।

সভপতির বক্তব্যে বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষ পালনের গৌরবোজ্জ্বল এই মূহুর্তে বইটি প্রকাশনার মাধ্যমে এর অংশ হতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত মনে করছি। বইটি দেশের আর্থিক খাতের ক্রমবিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হিসাবে ব্যাংক খাতের সুবিশাল ও সুগভীর বিস্তৃতি ও দ্রুততম বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- ও প্রবৃদ্ধিতে যে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল, তার একটি বিশ্লেষণধর্মী ও সহজবোধ্য দলিল।