শেয়ার বিজ ডেস্ক: তীব্র গরমের মধ্যে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং। হাইড্রোইলেকট্রিক ড্যামগুলোয় পানির মাত্রা কামে যাওয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। লোডশেডিং আরও বেশ কয়েকদিন থাকবে। খবর: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রীষ্ম দেখছে চীন। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতিতে। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সিচুয়ান প্রদেশের পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। প্রদেশটির সবচেয়ে বড় শহর চংকিংয়ের কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে গতকাল সোমবার থেকে শপিংমলগুলো খোলা রাখার সময়সীমা কমিয়ে দেয়া হবে। চংকিংয়ের অর্থনৈতিক ও তথ্য কমিশন জানায়, শপিংমলগুলোকে বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিরাপদ-সুশৃঙ্খলভাবে বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত ও জনসাধারণের মৌলিক চাহিদাগুলো ঠিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র গরম আবহাওয়ার কারণে শস্য নষ্ট হচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে নদী। এতে ওই অঞ্চল দিয়ে কার্গো জাহাজ চলাচলেও বিঘœ হচ্ছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ফুজিয়ানসহ ৬২টি আবহাওয়া কেন্দ্র রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। কয়েকদিন ধরে সিচুয়ান ও এর আশপাশের এলাকায় ৪০ ডিগ্রি ওপর তাপমাত্রা ওঠে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহ থেকে প্রদেশটিতে দৈনিক অন্তত তিন ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সেখানকার বাসিন্দাদের জনজীবন। স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম জানায়, অঞ্চলটিতে প্রায় ৫৪ লাখ বাসিন্দাকে নিয়মিত দাবানল ও লোডশেডিংয়ের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা আরও জানান, চীনে এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংজিতে পানি প্রবাহের মাত্রা রেকর্ড পরিমাণে কমে গিয়েছে। এ সংকটের জন্য তারা দায়ী করছেন খরা ও বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়াকে। চলতি বছরও ইয়াংজি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।




