প্রতিনিধি, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া এবং ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির কারণে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় পার্টির এএইচএম গোলাম শহীদ রনজ– (লাঙল), বিকল্পধারা জাহাঙ্গীর আলম (কুলা), স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (আপেল) ও স্বতন্ত্র সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (ট্রাক) ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ পরিস্থিতি দেখে ওই চার প্রার্থী সাঘাটা উপজেলার বগারভিটা স্কুল ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কাছে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
ভোট বর্জনকারী জাতীয় পাটির সমর্থিত প্রার্থী ও জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু সাঘাটা উপজেলার বগারভিটা স্কুল কেন্দ্রে নৌকাপ্রার্থী ছাড়া অপর ৪ প্রার্থী একত্রিত হয়ে সংবাদকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া, ইভিএমএ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
গাইবান্ধা জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহজাহান খান আবু জানান, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীরা সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কেন্দ্র তাদের দখলে নেয়। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে জাতীয় পার্টির এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। শুধু তা-ই নয়, প্রশাসনের গাফিলতির কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই সুযোগ নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তারাও দায়ী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে আমার কোনো কথা বলার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, বেলা ১০টা পর্যন্ত অনেক ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ভোটারদের উপস্থিতি নেই। কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি থাকলেও ৩-৪ জনের বেশি লক্ষ্য করা যায়নি।
কমিশনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের হতবাক করেছে: এদিকে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপনির্বাচন বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন। গতকাল বিকাল ৫টার দিকে সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সব প্রার্থী তাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, কোনো সংঘর্ষ-সংঘাত হয়নি। অথচ বাস্তবসম্মত কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে, যা সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তারপরেও আমরা নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে চলি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দুপুরে নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচন স্থগিত করে, যা সাধারণ জনগণ ও ভোটারদের হতবাক করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে অবিলম্বে সেই সকল ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা এবং যেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছিল সেসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের আহ্বান জানান।




