শেয়ার বিজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে ইউরোপে যে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হয় তার পোল্যান্ড অংশে ছিদ্র শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার এই ছিদ্র শনাক্তের পর ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর: রয়টার্স।
পোল্যান্ড জানিয়েছে, ড্রুজবা পাইপলাইনের এই ছিদ্র দুর্ঘটনায় কারণে ঘটতে পারে। এই পাইপ দিয়ে জার্মানিতে রুশ তেল সরবরাহ করা হয়। ড্রুজবা পাইপলাইনের রুশ নাম ‘বন্ধুত্ব’। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলের পাইপলাইন। এটি দিয়ে জার্মানি, পোল্যান্ড, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, সেøাভাকিয়া, চেক রিপাবলিক ও অস্ট্রিয়ায় রুশ তেল সরবরাহ করা হয়।
ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ডে পাইপলাইন অপারেটর পিইআরএন বলেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মধ্যাঞ্চলীয় পোলিশ শহর প্লোক থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে এই ছিদ্র শনাক্ত হয়।
গত মাসে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে চারটি ছিদ্র শনাক্ত হয়। এজন্য পশ্চিমা ও রাশিয়া একে অপরের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ এনেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে ইইউ দেশগুলো রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই নীতির অংশ হিসেবে রুশ তেলের মূল্য বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে ব্লকটি।
রাশিয়া বলছে, নর্ড স্ট্রিম-১ দিয়ে পাঁচটি লাইন রয়েছে। এর একাধিক লাইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের একটি প্রকল্প নর্ড স্ট্রিম এজি পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করে রাশিয়া। পরে জার্মানির কাছ থেকে সেই গ্যাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। ২০০৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে চালু হয় এই প্রকল্প।
গতকাল সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাগে বৈঠকে মিলিত হন ইইউ জ্বালানি মন্ত্রীরা। বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ গ্যাসের মূল্য বেঁধে দিতে সম্মত। কিন্তু কীভাবে করা হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। জার্মানিসহ ইউরোপের বৃহত্তম জ্বালানি ক্রেতারা বিরোধিতা করে আসছে। তারা বলছে, এতে করে সরবরাহ কমে যেতে পারে। নেতারা আসন্ন শীতে জ্বালানি মোকাবিলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন।




