শেয়ার বিজ ডেস্ক : সৌদি আরবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে। বার্ষিক হিসাবে অর্থাৎ গত বছরের সাপেক্ষে এ বছর এফডিআই কমেছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।
২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবে এফডিআই আসে ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ২ দশমিক ১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) ডলার, গত বছরের একই সময় যা ছিল ৫১ দশমিক ৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ৪৭ বিলিয়ন রিয়ালের মুনাফা করে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে দেশে বার্ষিক হিসাবে এফডিআই বাড়ে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর আগের তিন মাসের তুলনায় এফডিআই বাড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীত। কেননা বিশ্বে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে এফডিআই কমে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ। বার্ষিক হিসাবে এফডিআই তহবিল কমেছে ১৯
দশমিক ৫ শতাংশ।
উন্নত দেশগুলোর সংগঠন অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানিয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে সদস্য দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাক্সিক্ষত এফডিআই আসেনি। ইউরো অঞ্চলের দেশগুলোয় এফডিআই কমেছে ৯ শতাংশ। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতে এফডিআই কমেছে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময় জাপানে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এ সময় দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার ১০০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ কমার কারণে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সৌদি আরবে ফিক্সড মূলধন (জিএফসিএফ) বেড়েছে নামমাত্র ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ বা ২৪ কোটি ৮০ লাখ রিয়াল। বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূলধন গঠনে সরকারি খাতের অবদান ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা মোট জিএফসিএফের ১৪ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ৮৬ শতাংশ জিএফসিএফ বেড়েছে। এর অর্থ, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বেসরকারি খাত।
২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) তুলনায় জিএফসিএফ কমেছে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২১ সালে যা ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবের এফডিআই স্টক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সৌদি সরকারের নানা সুবিধা ও প্রণোদনা ঘোষণার পর এ স্টক বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নেয়া সরকারের বৈচিত্র্যময় নীতি এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
এসব কারণে ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত চুক্তি বেড়েছে ১৭৮ শতাংশ। এ প্রান্তিকে এখন পর্যন্ত ৫৩টি চুক্তি হয়েছে, ২০২১ সালের একই সময় যা ছিল মাত্র ১৯টি। সব মিলিয়ে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ২০৩টি চুক্তি হয়েছে, গত বছর যা ছিল মাত্র ৮৭টি। এ হিসেবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ চুক্তি বেড়েছে।
বিনিয়োগ-সংক্রান্ত এসব চুক্তির মধ্যে খাত হিসেবে শীর্ষে রয়েছে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন। ৫৩টি চুক্তির মধ্যে ৪৭টিই এ খাতের। অন্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োটেক, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসব খাতের প্রায় সমসংখ্যক চুক্তি হয়েছে।
দেশভিত্তিক বিনিয়োগের হিসেবে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি তৃতীয় প্রান্তিকের আগ পর্যন্ত ২০২২ সালে ১০টি চুক্তি করেছে।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, আমাদের দেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। এ ধরনের বিনিয়োগ আমাদের অর্থনীতি ও রাজস্বে বৈচিত্র্য আনতে কাজে লাগবে।