উত্তরা ফাইন্যান্সে চার সতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আমানতকারীর অর্থে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুনভাবে যাদের সতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা হলেন, মেজর জেনারেল মোঃ মাকসুদুর রহমান, মোহাম্মদ মইনুর চৌধুরী, মাহমুদ হোসাইন ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক।

তিনি জানান, আগেই প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে। নতুনভাবে এই চারজনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। পরিবর্তীতে আরও পরিচালক যুক্ত হতে পারে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে ১২ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে থেকে এই চারজনকে পরিচালক নিযুক্ত করা হয়। তবে এখনও চেয়ারম্যান নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, দুই বছর আগে (২০১৯) উত্তরা ফাইন্যান্সের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ওপর পরিদর্শন করে আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার বিভিন্ন তথ্য পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতের টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করা, কলমানির টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালকের ব্যক্তিগত কাজে খাটানো, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ বের করাসহ অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির তখনকার এমডি ও কয়েকজন পরিচালক মিলে এ অনিয়ম করেন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি সমকালে ‘আমানতের অর্থে উত্তরা ফিন্যান্সের স্বেচ্ছাচার’ শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা ফিন্যান্সের ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ওপর পরিদর্শন করে। ২০২০ সালে দীর্ঘ পরিদর্শন শেষে ২০২১ সালে এসে দিকনির্দেশনা দেয়। পরে বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান রহমান রহমান হকের বিশেষ নিরীক্ষায়ও অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। একসময় দেশের অন্যতম সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল উত্তরা ফাইন্যান্স। তবে জালিয়াতির তথ্য ফাঁসের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত চিত্র সামনে আসে।