শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের জনংসংখ্যা ১৯৬০ সালের পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কমেছে। এ ধারা দীর্ঘদিন বজায় থেকে চীনের লোকসংখ্যা কমতে থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর: রয়টার্স।
অপরদিকে ভারত চলতি বছরেই বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে উঠবে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছরের শেষে দেশটির লোকসংখ্যা ১৪১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার ছিল, কিন্তু এর এক বছর আগে সংখ্যাটি ১৪১ কোটি ২৬ লাখ ছিল।
২০২১ সালে প্রতি হাজারে জন্মহার ছিল ৭ দশমিক ৫২, গত বছর তা কমে ৬ দশমিক ৭৭ এ নেমে এসেছে; দেশটির রেকর্ডে এটিই সর্বনিন্ম জন্মহার।
১৯৭৬ সালের পর চীন গত বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হারও রেকর্ড করেছে। ২০২২ সালে দেশটি প্রতি হাজারে ৭ দশমিক ৩৭ মৃত্যু তালিকাবদ্ধ করেছে, যেখানে ২০২১ সালে মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ১৮।
মূলত ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা চীনের এক সন্তান নীতির কারণে জনসংখ্যা কমতে শুরু করে।
পাশাপাশি পড়াশোনার আকাশচুম্বী খরচও অনেক চীনা পরিবারকে এক সন্তানের বেশি না নিতে বাধ্য করেছে, এমনকি এ কারণে অনেকে কোনো সন্তানই নিচ্ছেন না।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা তিন বছর ধরে কঠোর শূন্য কভিড নীতি বজায় রাখার পর হঠাৎ তা তুলে নেয়ায় চীনের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে, এটিও জš§হার হ্রাসে ভূমিকা রাখছে।
চীনের স্থানীয় সরকারগুলো ২০২১ সাল থেকে একের অধিক সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কর ছাড়, মাতৃত্বকালীন ছুটি দীর্ঘয়িত করা ও ভর্তুকি মূল্যে বাড়ি দেয়া অন্যতম। কিন্তু এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের ওই ধারার পরিবর্তন হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
সর্বশেষ চীনের জনসংখ্যা কমেছিল ১৯৬০ সালে। ওই বছর মাও সে তুংয়ের বিপর্যয়কর কৃষি নীতি ‘গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ডের’ কারণে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল দেশটির মানুষ।




