‘তাইওয়ান প্লাস্টিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সফররত তাইওয়ানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সঙ্গে গতকাল বুধবার বিপিজিএমইএ অফিসে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বিপিজিএমইএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট তাইওয়ান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তাইওয়ান এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জেমস সি এফ হুয়াং। প্রতিনিধিদলের প্রধান জেমস সি এফ হুয়াং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাজার যাচাই করছি।’ তিনি বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তাইওয়ানের বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডেইরেন কেমিক্যাল কর্পো, ফুলবার্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোং লিমিটেড, ফরেমোজা প্লাস্টিক কর্পো, ওয়ালটন, সুইয়াং কোং লিমিটেড, ফাইসন্স ইলেকট্রনিক্স কর্পো প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এ সভায় যোগ দেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিপিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এএসএম কামাল উদ্দিন, ফেরদৌস ওয়াহেদ, সামিম আহমেদ, সিনিয়র সহসভপাতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, সাবেক সহসভাপতি কেএম ইকবাল হোসেন, পরিচালক সৈয়দ তাহসিন হক, এ টি এম সাঈদুর রহমান বুলবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিপিজিএমইএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি প্লাস্টিক সেক্টরের সামগ্রিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্লাস্টিক খাতে বর্তমানে বিশ্বপর্যায়ের পণ্য তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে পিভিসি পাইপ, হ্যাঙ্গার, গৃহসামগ্রী, খেলনা, পলি ব্যাগ, ফার্নিচার, ওভেন স্যাক ব্যাগ, প্যাকেজিং আইটেমসহ নানা পণ্য। এ সেক্টরে প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১২ লাখ লোক জড়িত হয়েছে।  তিনি বলেন, প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রফতানি হচ্ছে, যা বিশ্বের প্রায় ২৩টি দেশে যাচ্ছে। সেক্টরে ২০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তিনি এই সেক্টরে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ লাভজনক হবে। বিপিজিএমইএ এবং তাইওয়ানের কোম্পানি চেন চ্যাওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ারে তাইওয়ান কোম্পানিকে প্যাভিলিয়ন বুকিং দিয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। মো. জসিম উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান যোগ্য হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সক্ষম। প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্র ভারত ও চীনের অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। সরকারও বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখানে বিনিয়োগ অন্যদের তুলনায় তাই  লাভজনক হবে। তিনি বিপিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বিনিয়োগসহ বাণিজ্য প্রসারে সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সিএফ হুয়াং বাংলাদেশের প্লাস্টিক সেক্টরের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তাইওয়ানের বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরকে এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের অন্যরা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় আমরা অবদান রাখতে চাই। বিপিজিএমইএ’র প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তাইওয়ানের বিভিন্ন ফ্যাক্টরি চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশে রি-লোকেট করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

সভার শুরুতে বিপিজিএমইএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন প্রতিনিধিদলের প্রধানকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। বিপিজিএমইএ’র সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।