সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম এবং তার মা গুলশান আরা বেগমকে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেডে ঋণখেলাপির দায়ে গ্রেপ্তার করার জন্য চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত আদেশ দেন। তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হামিদা দোজা লিমিটেডের কাছে ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের বকেয়া পাওনা ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই আদেশে তাদের দেশত্যাগের নিশেধাজ্ঞাও দেয়া হয়। গতকাল ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের জারি মামলার শুনানিতে এ আদেশ দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম অর্থ আদালত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম বাণিজ্যিকভাবে জাহাজ পরিচালনা ব্যবসা, মাছ ধরার ট্রলার, প্লাস্টিক পণ্যের রি-সাইক্লিং, ট্রেডিং ব্যবসা, জাহাজভাঙ্গার শিপ ইয়ার্ড ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়েছেন ক্রিস্টাল গ্রুপ। এ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেসিক, রূপালী, ফারমার্স ব্যাংকসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি। ক্রিস্টাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হামিদা দোজা লিমিটেডের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স। মামলার শুনানি শেষে মুরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম এবং তার মা গুলশান আরা বেগমকে গ্রেপ্তার করার আদেশ দেন আদালত। একই আদেশে তাদের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম শেয়ার বিজকে বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো পাওনা পরিশোধে চার বছর সময় পেলেও মুরশেদ মুরাদ পাওনা পরিশোধ করেননি। এমনকি বাংলাদেশে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা দেয়া হলেও এ ব্যবসায়ী তা পরিশোধে সেই সুবিধার আওতায় আবেদনও করেননি। উল্টো মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য কূটকৌশল করেছেন।
উল্লেখ্য, ক্রিস্টাল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসাবে ক্রিস্টাল নেভিগেশন, বে নেভিগেশন, আইজি নেভিগেশন, ক্রিস্টাল ল্যান্ডমার্ক, ইব্রাহিম ফার্মস, ম্যাক ট্রেড, ক্রিস্টাল ফিশারিজস, এমআরএফ ফিশারিজস ও ফারুক অ্যান্ড সন্স নামে প্রতিষ্ঠান আছে। এর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি।