আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও পরিচালক হতে লাগবে ৩০ বছর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নিয়োগের নিয়মও কঠোর করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স হতে হবে ৩০ বছর। একই সঙ্গে পরিচালক হতে হলে ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর আগে এমন কোনো সীমা ছিল না। এছাড়া কোনো একক পরিবার থেকে ২ জনের বেশি সদস্য পরিচালক হতে পারবে না। পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১৫ জন। এর মধ্যে ন্যূনতম ২ জন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে হবে। পরিচালক পদের মেয়াদ হবে তিন বছর। কোনো পরিচালক টানা ৯ বছরের অধিক সময় পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। পর্ষদ সদস্যদের মধ্যে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের মেয়াদ হবে দুই বছর।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নীতিমালায় বলা হয়, ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ শেয়ারধারক পরিচালক, শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক এবং স্বতন্ত্র পরিচালক এর সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিকল্প পরিচালকও পরিচালক পর্ষদের সদস্য হবেন। নীতিমালা অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হবে ২ জন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর হতে হবে। পাশাপাশি দশ বছরের ব্যবস্থাপনা বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তির বয়স ১৮ (আঠারো) বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার কোনো কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেয়া হবে না। পরিচালক হিসেবে মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিযুক্তি, পদায়ন বা পুনঃনিযুক্তি বা পুনঃপদায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া কোনো পরিচালককে তার পদ হতে অপসারণ করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়, তিনি ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হননি কিংবা সরকারের কোনো সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত তদন্ত বা পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী জালিয়াতি, প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ বা অন্যবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বা জড়িত নন; তার সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে কোনো বিরূপ পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য নেই; তিনি আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান, নীতিমালা বা নিয়মাচার লঙ্ঘনজনিত কারণে দণ্ডিত হননি; তিনি এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, যার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বা প্রতিষ্ঠানটি অবসায়িত হয়েছে; তিনি বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণগ্রহীতা নন এবং তিনি কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি কর্তৃক ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে ওই তালিকা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর ৫ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন না।