কাল সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোয় ঈদ হতে পারে

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জ্যোতির্বিদদের হিসাব-নিকাশ বা গণনা অনুযায়ী, চলতি বছর পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনের হতে পারে। সেই হিসাবে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোয় আগামীকাল বুধবার ঈদ। খবর: আল জাজিরা।

পবিত্র রমজান মাস শেষের দিকে। দেশে দেশে মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এক মাসের রোজা শেষে ঈদের খুশিতে মাতবেন সবাই। হিজরি বর্ষপঞ্জিতে রমজানের পর শুরু হয় পবিত্র শাওয়াল মাস। বর্ষপঞ্জির দশম মাস এটি। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর পশ্চিম আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখে ঈদ উৎসবে মেতে ওঠেন।

চান্দ্রমাস ২৯ কিংবা ৩০ দিনের হয়। তাই ঈদ কবে হবে, সেটা নিশ্চিত করে জানার জন্য মুসলমানদের ২৯ রমজানের ইফতারের পর অর্থাৎ সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর আগে জানার সুযোগ নেই। গতকাল সোমবার সৌদি আরবসহ আশপাশের দেশগুলোর মানুষ ইফতারের পর চাঁদ দেখার জন্য পশ্চিম আকাশে চোখ রাখেন।

চাঁদ দেখা গেলে আজ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর হবে। চাঁদ দেখা না গেলে জ্যোতির্বিদদের হিসাব সত্যি করে, ঈদ হবে বুধবার। সে ক্ষেত্রে মঙ্গলবার এসব দেশের মানুষ আরও এক দিন রোজা রাখবেন।

সাধারণত ঈদকে কেন্দ্র করে তিন দিনের উৎসব হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় ঈদের দিন এবং ঈদের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট তিন দিনের সাধারণ ছুটি থাকে। তবে দেশভেদে ছুটির তারতম্য দেখা যায়। ঈদের দিন সকালে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলিমরা। সাধারণত খোলা মাঠ, ঈদগাহ বা মসজিদে নামাজ হয়। ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে নামাজের জায়গাটি। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন সবাই।

ঈদের নামাজের আগে-পরে মিষ্টিমুখ করার রেওয়াজ আছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ঈদের সকালে খাওয়ার জন্য মামৌল নামে খেজুর দিয়ে একধরনের বিশেষ বিস্কুট বানানো হয়। মুসলিম বিশ্বে ঈদুল ফিতরে মিষ্টি বিতরণ করেন অনেকে। এজন্য এ ঈদকে ‘মিষ্টি’ ঈদও বলা হয়। অনেকে ঈদের দিন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশীর বাসায় যান। ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বিলান। নিজেরাও খান। কুশল বিনিময় করেন। অনেক দেশে সেলামি দেয়া-নেয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

ঈদের আগে থেকে বিভিন্ন শহরে আলোকসজ্জা করা হয়। বিপণিবিতান, সরকারি-বেসরকারি ভবন, সুউচ্চ স্থাপনা আলোর রোশনাইয়ে ঢেকে ফেলা হয়। উপহার বিনিময় ঈদের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ।  শুভেচ্ছা জানাতে দেশে দেশে মুসলিমরা একে অপরকে ‘ঈদ মোবারক’ বলেন। অনেক দেশে ঈদের দিনে কবরস্থানে যাওয়ার রেওয়াজ আছে। প্রিয়জনের কবরে গিয়ে দোয়া করেন স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। সাধারণত ঈদের নামাজের পরপর অনেকে কবরস্থানে যান।