সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ার কারসাজির দায়ে ৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪২৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার বিএসইসির অনুষ্ঠিত ৯২৪তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবরটি শেয়ার বিজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে গতকাল।
খবরের তথ্যমতে, অন্য আট প্রতিষ্ঠানের জরিমানা হলেও বোধকরি সাধারণ মানুষের মনোযোগ বেড়েছে বেক্সিমকোর নাম। কেননা, গত দেড় দশকে প্রতিষ্ঠানটি ছিল একপ্রকার অপ্রতিরোধ্যÑধরাছোঁয়ার বাইরে।
এছাড়া ৯টি ইস্যুয়ার কোম্পানির আইপিও বা আরপিও প্রসিডস ইউটিলাইজেশন পরিদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। বাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিলে শেয়ারবাজার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করত না বিনিয়োগকারীরা। তিক্ত অভিজ্ঞতা এমন যে সর্বস্বান্ত হতে হয় কিংবা স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ করে নিতে হয়।
গত কয়েক বছর বাজার চাঙ্গা করতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে অনেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু সুফল পায়নি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এটি মানতে দ্বিধা নেই, বাজারে বুঝেশুনে বিনিয়োগ করতে হয়। তাই বলে খেলোয়াড়রা কারসাজি করে লাভবান হবেন, অন্যরা নিঃস্ব হবেন; সেটি প্রত্যাশিত নয়।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলেন, ফোর্সড সেল যখন বেড়ে যায়, তখন বাজারে ক্রেতাসংকট দেখা দেয়। তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগও কমে যায়। তবে দাম বাড়তে থাকলে তখন ক্রেতাও তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কারও ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ থাকলে আতঙ্কিত হয়ে তার সেসব শেয়ার বিক্রির কোনো দরকার নেই। সাময়িকভাবে এসব শেয়ারের দাম কমলেও তা ঘুরে দাঁড়াবে।
বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও কারসাজি করে যেসব কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে, সেসব কোম্পানিই নির্ধারণ করে ডিএসইএক্স সূচকের উত্থান-পতন। সূচক গণনায় যখন বাড়বে বাজে হিসেবে বিভিন্ন সময় পরিচিত কোম্পানির অবদান, অন্যদিকে কমে যায় ভালো কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্ব; তখন প্রতিকারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া গেলে বাজারে দুষ্ট লোকদের দৌরাত্ম্য করে আসবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বিএসইসি সূচকে কোনো ভুল বার্তা গেলে সংস্থাটি তা অব্যাহত রাখবে নাকি সূচক সংশোধনের উদ্যোগ নেবে? ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে কর্তৃপক্ষ কৃত্রিমভাবে শেয়ারবাজার চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করেছিল, যা সঠিক ছিল না। শেয়ারবাজারকে চলতে দিতে হবে স্বাভাবিক গতিতে। ১৯৯৬ ও ২০১০-এর পরিস্থিতির কথা আমাদের বিশেষ করেবাজার সংশ্লিষ্টদের মনে আছে। ওই শেয়ারবাজারের ‘বড় খেলোয়াড়রা’ কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১০-এর শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত কমিটি হলেও সরকার এর সুপারিশ বাস্তবায়ন বা দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করেনি। এখন পরিবর্তিত সময়ে এক-দুটি দৃষ্টান্ত বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করলেও বাজার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। সুশাসন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু করা গেলে কেউ বাজার নিয়ে কারসাজি করতে পারবে না।




