খনিজের বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধে রাজি জেলেনস্কি

শেয়ার বিজ ডেস্ক :যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে নজর দিয়েছেন। তার এ আগ্রহের সূত্র ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ সম্পদ দিতে রাজি। তবে বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধেও রাজি। খবর: রয়টার্স।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ইউক্রেনের একটি গোপন মানচিত্রের ওপর দৃষ্টিপাত করেন। মানচিত্রটিতে ইউক্রেনের বিরল মৃত্তিকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিশাল মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই রাশিয়ার অধীনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলেনস্কির এ প্রচেষ্টা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক মনোভাবকে আকর্ষণ করার লক্ষ্য।

ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চায়। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল মৃত্তিকা এবং অন্যান্য খনিজ সরবরাহ করুক। বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করবে। এ প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি বলেন, যদি আমরা চুক্তি নিয়ে কথা বলি, তাহলে চলুন একটি চুক্তি করি, আমরা এর পক্ষে। তবে এ সময় তিনি বলেন, তিনি যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে হবে।

গত বছরের মাঝামাঝি ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রগুলোয় মিত্রদের বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার ধারণা উপস্থাপন করে। সে সময় জেলেনস্কি একটি ‘বিজয় পরিকল্পনা’ও মিত্রদের কাছে তুলে ধরেছিল। এর মাধ্যমে দেশটি নিজেদের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এবং মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করেছিল।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদগুলোর ২০ শতাংশের কম বর্তমানে রাশিয়ার দখলে। বিরল মৃত্তিকা খনিজগুলো উচ্চ শক্তির চৌম্বক, বৈদ্যুতিক মোটর এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য ইলেকট্রনিকসের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি বলেন, মস্কো এই খনিজগুলো তার মিত্র উত্তর কোরিয়া এবং ইরানকে দিতে পারে। আমাদের পুতিনকে থামাতে হবে এবং যা আমাদের কাছে আছে, তা রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রো অঞ্চল খুবই সমৃদ্ধ। এ অঞ্চলকে রক্ষা করতে হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তার দেশে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে টাইটানিয়াম মজুত রয়েছে। এই টাইটানিয়াম বিমান ও মহাকাশ শিল্পে অপরিহার্য।