লেনদেনের শীর্ষে গ্রামীণফোন লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে টেলিকমিউনিকেশন খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড। দিনজুড়ে কোম্পানিটির ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭টি শেয়ার ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৩১ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৪৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩৪৩ টাকা ও সর্বোচ্চ ৩৪৭ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। দিনজুড়ে কোম্পানিটির ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭টি শেয়ার মোট ১ হাজার ৭৭৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর ২২১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

এদিকে সম্প্রতি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত ১৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এর আগে ১৬০ শতাংশ অন্তবর্তীকালীন লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। অর্থাৎ আলোচিত হিসাববছরে সর্বমোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে কোম্পানিটি। যা আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির মোট মুনাফার ১২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৯৫ পয়সা। আর এই হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৪৫ টাকা ৯১ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১০ টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি।

৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সর্বশেষ ১২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা করেছে। যা আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির মোট মুনাফার ৫১ দশমিক ০৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সা। আর এই হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৪৪ টাকা ৮৮ পয়সা। এর আগে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাবছরের জন্য কোম্পানিটি ৯৫ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন ১২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর হিসাববছরের জন্য সর্বমোট ২২০ শতাংশ দিয়েছিল গ্রামীণফোন। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২২ টাকা ২৯ পয়সা। আর ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ২২ পয়সা। এছাড়া আলোচিত সময়ে তাদের শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৪৭ টাকা ২৬ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৪ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৪ হাজার ৫১০ কোটি ১ লাখ টাকা। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট ১৩৫ কোটি তিন লাখ ২২টি শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার।