নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ। উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাকে ট্রাকে আসা এসব পেঁয়াজের মান ভালো ও সস্তা হওয়ায় চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। ফলে খাতুনগঞ্জের আড়তগুলো
ভারতীয় পেঁয়াজ থাকলেও চাহিদার শীর্ষে রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। আর স্বল্প দামে হওয়ায় খুচরা দোকানিদের পাশাপাশি রিকশা-ভ্যানের ফেরিওয়ালারাও বিক্রির জন্য কিনছে পেঁয়াজ।
বিক্রেতারা জানান, দেশি পেঁয়াজ দামে সস্তায় হওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব পেঁয়াজ বেশি কিনছেন। মেহেরপুরের পেঁয়াজ ২২-২৫ টাকা, কুষ্টিয়া ফরিদপুরের হালি পেঁয়াজ ৩৫-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে রিকশা-ভ্যান ও খুচরা দোকানে দেশি ছোট পেঁয়াজ ৫০ টাকা, মেহেরপুরী বড় পেঁয়াজ তিন কেজি ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। ফলে খাতুনগঞ্জ থেকে এসব পেঁয়াজ রিকশা, মিনি ট্রাক, পিকআপ ও ট্রাকে করে নগরের বিভিন্ন খুচরা দোকান ও উপজেলার হাটবাজারে নিয়ে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা।
নগরীর চকবাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা তাপস কুমার পেঁয়াজ কিনতে আসেন বেঙ্গল ট্রেডাসের আড়তে। তিনি জানান, কুষ্টিয়া ফরিদপুরের হালি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৩ টাকা করে কিনেছি। প্রতি বস্তায় ৪৫-৪৮ কেজি পেঁয়াজ রয়েছে। বস্তায় ২০ টাকা কুলির মজুরি, কেজিপ্রতি আড়তকে ৩০ পয়সা কমিশন, দোকান পর্যন্ত গাড়িভাড়া দিয়ে খুচরায় কেজি ৪০ টাকা বা তিন কেজি ১১০-১২০ টাকা বিক্রি করতে পারব।
ভোক্তাদের চাহিদা ও খুচরা বিক্রেতাদের পেঁয়াজ ক্রয় সম্পর্কে জানতে বেঙ্গল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী উত্তম কুমার সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, বর্তমানে বাজারে দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজ ছাড়া অন্য কোনো দেশের পেঁয়াজ নেই। তবে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা ও সরবরাহ দুটোই বেশি। বাজারে দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে ভারতীয় পেঁয়াজ থাকলেও দেশি পেঁয়াজের তুলনায় ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কম, দামও বেশি। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রিকশা-ভ্যানে করে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য খাতুনগঞ্জ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে মেহেরপুরী পেঁয়াজ ক্রয় করেছেন নগরীর বাকলিয়া এলাকার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমি ভ্যানে করে ফেরি করে পেঁয়াজ বিক্রয় করি। তাই সস্তা দামের পেঁয়ার সংগ্রহ করি।
সাধারণত আমরা এক সঙ্গে তিন কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি করি। দামে সস্তা হওয়ায় আমাদের ক্রেতারাও বেশি করে নিয়ে যায়। তবে কেউ পরিমাণে কম নিতে চাইলে সেভাবেও বিক্রয় করি। সে ক্ষেত্রে দাম একটু বাড়িয়ে রাখি।




