সংবেদনশীলতা হারানো সমাজ: সহানুভূতির আকাল পড়েছে কি?

ড. মতিউর রহমান : আধুনিক বিশ্বের গতিময় প্রবাহ, প্রযুক্তিগত বিপ্লব এবং পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট মানবসমাজকে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা হয়েছে দ্রুততর, সংযোগ হয়েছে ভার্চুয়াল এবং সম্পর্ক হয়েছে ক্ষণস্থায়ী। এই প্রেক্ষাপটে একটি জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে-আমরা কি ধীরে ধীরে আমাদের মৌলিক মানবিক গুণাবলি, বিশেষ করে সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতি হারাচ্ছি?

সংবেদনশীলতা বলতে বোঝায় অন্যের অনুভূতি, পরিস্থিতি বা কোনো সূক্ষ্ম বিষয়ে দ্রুত এবং গভীরভাবে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। অন্যদিকে সহানুভূতি হলো অন্যের কষ্ট বা আনন্দকে নিজের মতো করে অনুভব করার এবং তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে বোঝার প্রচেষ্টা। মানবসমাজে এই দুটি গুণাবলি পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন, বোঝাপড়া এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু সমাজের বর্তমান চালচিত্র কি এই গুণাবলির অভাবের দিকেই ইঙ্গিত করছে?

সংবেদনশীলতা হলো পারিপার্শ্বিক জগৎ এবং সেখানে বিদ্যমান মানুষ ও ঘটনার প্রতি মানসিক ও আবেগিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর একটি সূক্ষ্ম ক্ষমতা। এটি বস্তুজগতের বাইরে গিয়ে অন্যের অস্তিত্ব বা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনে সাহায্য করে। একজন সংবেদনশীল ব্যক্তি অন্যের মুখের ভাব, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা বা পরিস্থিতির সূক্ষ্মতা সহজেই ধরতে পারেন এবং সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানান। এটি প্রায়ই সহজাত হলেও পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রভাবিত হয়।

অন্যদিকে সহানুভূতি হলো সংবেদনশীলতার চেয়ে গভীরতর একটি মানসিক অবস্থা। এটি কেবল অন্যের অনুভূতি বোঝা নয়, বরং সেই অনুভূতিকে নিজের হƒদয়ে ধারণ করা এবং তাদের অবস্থানে নিজেকে বসিয়ে পরিস্থিতি উপলব্ধি করার ক্ষমতা। সহানুভূতিশীল ব্যক্তি অন্যের দুঃখে ব্যথিত হন, তাদের সাফল্যে আনন্দিত হন এবং তাদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী হন। সহানুভূতি আমাদের যুক্তিবাদী মন এবং আবেগিক হৃদয়ের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে, যা মানব সম্পর্ককে দৃঢ় করে। সংবেদনশীলতা অনেক ক্ষেত্রে সহানুভূতির প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে; সংবেদনশীল না হলে অন্যের সূক্ষ্ম অনুভূতি বা কষ্ট অনুধাবন করা কঠিন, আর এটি অনুধাবন করতে পারলেই সহানুভূতির বিকাশ সহজ হয়। এই দুটি গুণাবলি একে অপরের পরিপূরক এবং সুস্থ সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।

বর্তমান সমাজে সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতির অভাব নানাভাবে প্রকট হচ্ছে। সাইবার জগতে এর একটি ভয়ঙ্কর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় সাইবার হয়রানি এবং অনলাইন বিদ্বেষের আকারে। মুখোশের আড়ালে মানুষ অন্যকে যাচ্ছেতাই ভাষায় আক্রমণ করছে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে, যা বাস্তব জীবনে হয়তো সে করত না। পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা এবং ছোটখাটো বিষয়ে আগ্রাসী মনোভাব এখন যেন সাধারণ ঘটনা। রাস্তায় সামান্য যানজট বা দোকানে সামান্য অপেক্ষায় আমরা অধৈর্য হয়ে পড়ছি, উত্তেজিত হয়ে পড়ছি, এমনকি শারীরিক সংঘাতেও জড়িয়ে পড়ছি। অন্যের দুঃখ-কষ্ট বা সমস্যায় উদাসীনতা অথবা সেগুলোকে উপহাস করার প্রবণতাও ক্রমেই বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা সংবাদে কারও দুর্দশার খবর দেখে হয়তো আমরা কেবল একটি ‘লাইক’ বা ‘শেয়ার’ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি, তার প্রতি প্রকৃত সংবেদনশীলতা বা সহানুভূতি দেখাচ্ছি না। সমাজ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে মেরূকরণ চরমে পৌঁছেছে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে, তাদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি প্রদর্শিত হচ্ছে না। মানুষে মানুষে আস্থার অভাব প্রকট হচ্ছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে, সবাই যেন নিজের ছোট গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

ধৈর্য ও সহনশীলতার অভাব এতটাই প্রকট যে, আমরা অন্যের কথা শুনতে চাই না, তাদের বোঝাপড়ার চেষ্টা করি না, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। এই লক্ষণগুলোই প্রমাণ করে, সমাজে সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতির আকাল ক্রমেই বাড়ছে।

সমাজে সহানুভূতির অভাবের পেছনে একাধিক কারণ ক্রিয়াশীল। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এর অন্যতম প্রধান কারণ। আমরা ভার্চুয়াল জগতে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বাস্তব জীবনে পাশের মানুষটির সঙ্গে আমাদের সংযোগ হয়তো ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে তৈরি হওয়া সম্পর্কগুলো প্রায়ই অগভীর হয়, যেখানে অন্যের আবেগ বা কষ্টের গভীরতা অনুধাবন করার সুযোগ কম থাকে।

ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ। আধুনিক সমাজ মানুষকে প্রবলভাবে আত্মকেন্দ্রিক হতে শেখাচ্ছে। অন্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাদের মধ্যে এক ধরনের নির্মমতা তৈরি করছে, যেখানে অন্যের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর চেয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলই মুখ্য হয়ে ওঠে। দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাপন এবং সময়ের অভাবও সহানুভূতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। আমরা এত ব্যস্ত যে, নিজের বা অন্যের আবেগিক চাহিদা পূরণের জন্য আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই।

অবিরাম সহিংসতা এবং নেতিবাচক খবরের প্রতি ক্রমাগত সংস্পর্শ আমাদের সংবেদনশীলতাকে ভোঁতা করে দিচ্ছে, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডেসেনসিটাইজেশন’ বলা হয়। লাগাতার নেতিবাচক ঘটনা দেখে দেখে আমরা সেগুলোর প্রতি আর তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি না। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়াও একটি বড় কারণ। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়া এবং প্রতিবেশীদের সাথে কম মেলামেশা করার ফলে আমরা ছোটবেলা থেকে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে চলা বা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধের চেয়ে কেবল প্রতিযোগিতা এবং ফলাফলের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, যা শিশুদের মধ্যে সহানুভূতির মতো গুণাবলির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তাও মানুষকে আত্মরক্ষামূলক করে তুলছে, যার ফলে অন্যের প্রতি মনোযোগী হওয়ার বা তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর মানসিকতা কমে যাচ্ছে।

সমাজে সহানুভূতির অভাবের প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত নেতিবাচক। এর সরাসরি শিকার হয় ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কগুলো। ভুল বোঝাবুঝি বা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সম্পর্ক ভেঙে যায়, পরিবারে দূরত্ব বাড়ে, বন্ধুত্বের বন্ধন আলগা হয়। সহানুভূতির অভাবে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিচ্ছিন্নতাবোধ, বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পায়। যেহেতু মানুষ অন্যের কাছ থেকে আবেগিক সমর্থন বা বোঝাপড়া পায় না, তাই তারা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে নেয়। সহানুভূতির অভাব সামাজিক সংহতি ও শান্তি নষ্ট করে।

ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা সংঘাত ও হানাহানির জš§ দেয়। সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ বাড়ে, যা সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। অবিচার ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, কারণ আমরা যখন অন্যের কষ্ট অনুভব করতে পারি না, তখন তাদের প্রতি অন্যায় করতে বা তাদের অধিকার লঙ্ঘন করতে আমাদের বিবেকে বাধা দেয় না। পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব দেখা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামাজিক সংকটের সময় মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। সংক্ষেপে, সহানুভূতির অভাব একটি অসুস্থ, অসংহত ও অসুখী সমাজ তৈরি করে।

একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর সমাজ গঠনের জন্য সহানুভূতি অপরিহার্য। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। যখন আমরা অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হই, তখন তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারি, যা ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে। সহানুভূতি সমস্যা সমাধান ও সংঘাত নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মানুষকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করে। সহানুভূতি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিকাশের ভিত্তি। এটি আমাদের ন্যায়পরায়ণ হতে, অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করে।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহানুভূতি আমাদের সুখী ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যখন আমরা আমাদের প্রিয়জনদের প্রতি সহানুভূতিশীল হই, তখন সম্পর্কগুলো আরও গভীর এবং অর্থবহ হয়। এটি আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্যও জরুরি, কারণ সহানুভূতিশীল হওয়া মানে কেবল অন্যকে দেওয়া নয়, বরং এর মাধ্যমে আমরা নিজেদেরও আবেগিকভাবে সমৃদ্ধ করি। সহানুভূতি ছাড়া মানব সমাজ হয়তো টিকে থাকত, কিন্তু তা হতো কেবল টিকে থাকা, সেখানে প্রকৃত মানবিক বন্ধন বা সুখ থাকত না।

সমাজে সহানুভূতির অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজন সচেতন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে মানবিক মূল্যবোধ এবং সহানুভূতির চর্চা অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে শিশুদের সহানুভূতির গুরুত্ব শেখানো উচিত এবং তাদের মধ্যে এই গুণাবলি বিকাশের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। পারিবারিক পর্যায়ে পিতামাতার দায়িত্ব অপরিসীম। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত, তাদের শেখানো উচিত কীভাবে অন্যের অনুভূতিকে সম্মান করতে হয়।

প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সচেতন ব্যবহার জরুরি। ভার্চুয়াল জগতের চেয়ে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে সংযোগ ও মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি করতে হবে। মুখোমুখি আলোচনা, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাদের আবেগিক অবস্থা অনুধাবন করার চেষ্টা সহানুভূতির বিকাশে সাহায্য করে। সহানুভূতিশীল আচরণ অনুশীলন করার মাধ্যমে মানসিকতা পরিবর্তন সম্ভব। প্রতিদিন ছোট ছোট কাজে সহানুভূতির চর্চা করা যেতে পারে, যেমন কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিপদে পড়া কাউকে সাহায্য করা বা কেবল একটু হেসে কুশল বিনিময় করা।

সামাজিক কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মিশতে পারি এবং তাদের জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারি, যা সহানুভূতির বিকাশ ঘটায়। শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির মাধ্যমেও মানসিক সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। বই পড়া, চলচ্চিত্র দেখা বা গান শোনার মাধ্যমে আমরা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবন ও আবেগি জগৎ সম্পর্কে জানতে পারি, যা আমাদের সহানুভূতিশীল করে তোলে।

আধুনিক সমাজ নানা কারণে সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতির এক গভীর সংকটের সম্মুখীন। এর লক্ষণগুলো আমাদের চারপাশে স্পষ্টতই বিদ্যমান এবং এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই অনুভূত হচ্ছে। প্রযুক্তি, প্রতিযোগিতা, ব্যস্ত জীবন ও শিথিল সামাজিক বন্ধন এই আকালকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সহানুভূতি হারানো একটি সমাজ বিচ্ছিন্নতা, সংঘাত ও অসুখের দিকেই ধাবিত হয়। তবে পরিস্থিতি হতাশাজনক হলেও সমাধানের পথ খোলা রয়েছে।

সহানুভূতি একটি সহজাত গুণ হলেও এর চর্চা এবং বিকাশ সম্ভব। শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার, সমাজ ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি। সচেতনতার মাধ্যমে আমরা নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে পারি এবং অন্যের প্রতি আরও সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল হতে পারি। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সম্মিলিতভাবে এক বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ি যেখানে সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতি কেবল ধারণাই নয়, বরং আমাদের জীবনাচরণের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠে। একটি সহানুভূতিশীল সমাজই পারে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী